1. masudkhan89@yahoo.com : admin :
  2. masudkhan89@gmail.com : Masud Khan : Masud Khan
  3. news.chardike24@gmail.com : চারদিকে ২৪.কম : রাইসা আক্তার

নয়নাভিরাম বুলগেরিয়ায় দিন-রাত: রাসেল আহম্মেদ

  • আপডেট সময়: শনিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২১
  • ১৩০ দেখেছেন
বান্সকো বুলগেরিয়া তথা সমগ্র বলকান অঞ্চলের মধ্যে জনপ্রিয় শীতকালীন পর্যটন শহর

পূর্ব ইউরোপের দেশ বুলগেরিয়ার রাজধানী সোফিয়া থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার দক্ষিণের ছোট শহর বান্সকোতে ১০ দিনব্যাপী “সোস্যাল ইন্টারপ্রেনিয়রশীপ পর রেফুজি ইন্টেগ্রেশন” শীর্ষক একটি সম্মেলনে যোগদিতে পর্তুগাল থেকে ৬ জনের একটি দল অংশগ্রহণ করি এবং তার নেতৃত্ব প্রদান করি। বাংলাদেশী ৪ জন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে একজন জার্মান থেকে ও অন্য ৩ জন পর্তুগালের এবং একজন পিনিস ও অন্যজন ফ্রান্সের নাগরিক আমরা।

বান্সকো বুলগেরিয়া তথা সমগ্র বলকান অঞ্চলের মধ্যে জনপ্রিয় শীতকালীন পর্যটন শহর হিসেবে পরিচিত। পিরিন মাউনন্টেন এর পাদদেশে অবস্থিত শহটিতে শীতের সময়ে দেশী বিদেশি লক্ষ লক্ষ পর্যটকের সমাগম হয়। বিশেষ করে যারা স্কিইং এবং স্নোবোর্ডিং পছন্দ করে তাদের কাছে এই শহরের বিশেষ কদর রয়েছে। স্কিইং করার জন্য এখানে প্রায় ৭৫ কিলোমিটারের বেশী ট্রেক বা পথ রয়েছে যার মধ্যে সবচেয়ে বড়টি প্রায় ১৬ কিলোমিটার লম্বা। এর মধ্যে একটি ট্রেকে আলোর ব্যবস্থা রয়েছে রাতের বেলা স্কিইং করার সুবিধার্থে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইরাজমুস প্লাস এর আওতায় ইউথ এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের অধিনে সম্মেলনে পর্তুগাল ছাড়াও ইতালী, গ্রীস, তুরস্ক এবং হোস্ট কান্টি বুলগেরিয়ার ৫ জন করে অংশগ্রহণকারী রয়েছে যাদের সবার বসয় ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে শুধুমাত্র দলনেতা ছাড়া।

সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল বর্তমান ইউরোপের অভিবাসী ও শরনার্থীদের বিষয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের তরুণদের ধারণা দেওয়া এবং এই বিষয়ে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি সৃষ্টি করা। সম্পুর্ন বিষটি একে অপরের সাথে তাদের ব্যক্তিগত ও প্রতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করার মাধ্যমে নিজেদের জ্ঞান সমৃদ্ধ করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য।

প্রোগ্রামে অংশগ্রহণকারী সদস্যরা ডিনারে

সম্মেলনে আগত সবাই অভিবাসন ও শরনার্থীদের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব পোষণের পাশাপাশি তাদের স্থানীয় মানুষজনের সাথে একত্রে কাজ ও সমান অধিকার নিশ্চিত করার পক্ষে কথা বলেন। বিভিন্ন কর্মশালা, দলবদ্ধ আলোচনা, তথ্য চিত্র, ডিবেট এবং এসাইনমেন্টের মাধ্যমে অভিবাসী ও শরনার্থীদের বাস্তব প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। অভিবাসী ও শরনার্থীদের উন্নয়ন এবং তাদের মূল ধারায় সংযুক্ত করে স্থানীয় অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখার উপর প্রধান্য অংশগ্রহণকারী প্রধান্য দেয়।

মূলত এই ধরনের প্রোগ্রামের মাধ্যমে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিউনের তরুণদের সচেতন করা এবং এই বিষয়ে তাদের কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহনের বিষয়ে আগ্রহী এবং উৎসাহ প্রদানই করাই থাকে মূল উদ্দেশ্য। তাছাড়া ইউরোপীয় ইউনিউনের অনন্য সুযোগ সুবিধা সমূহ তরুণদের কাছে উপস্থাপন করা যেমন, ইউথ এক্সচেঞ্জ, মোবিলিটি অব ইউথ ওয়ার্কার, ইরাজমুস ইন্টানশীপ, ইরাজমুস মুন্ডাস, ইরাজমুস পর ইউর এন্টারপ্রাইজ, ইরাজমুস সলিডারিটি করর্পস, ইরাজমুস প্লাস প্রোগ্রাম ইত্যাদি।

এসকল প্রোগ্রামের আওতায় ইউরোপীয় ইউনিউনের সদস্য দেশ ছাড়াও ইউরোপীয় ইকোনমিক জোন এবং মহাদেশটির পার্শ্ববর্তী কয়েকটি দেশের তরুণ এবং যুবকরা শিক্ষা বৃত্তি, প্রশিক্ষিত ও দক্ষতা উন্নয়ন, ইর্ন্টানশীপ, সেচ্ছাসেবী এবং নতুন যেকোন সামাজিক ও ব্যবসায়িক ধারনা বাস্তবয়নের সুযোগ পেয়ে থাকে। মূলত ১৩ থেকে ৩০ বছরের তরুণ যুবকরা এই সুবিধা পেয়ে থাকেন এবং কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে এই বসয়সীমা শিথিল যোগ্য হয়ে থাকে।

প্রোগ্রামের অধিনে স্বাগত দেশের ইতিহাস ঐতিহ্য এবং বেশকিছু পর্যটন আকর্ষনীয় স্থান ভ্রমনের সুযোগ থাকে। বুলগেরিয়া তথা বলকান অঞ্চলের সবচেয়ে বড় অর্থোডক্স মনেস্টারি “রিলা মনাস্টেরি” তে আমাদের যাওয়ার সুযোগ হয় যার রয়েছে হাজার বছরের ইতিহাস এবং তা বুলগেরিয়ার সংস্কৃতি ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ। বুলগেরিয়া তথা সমগ্র বলকান অঞ্চল থেকে এখানে হাজার হাজার মানুষ ভীর করে তাদের পবিত্র স্থানটি দেখতে ও সৃষ্টিকর্তার নিকট প্রার্থনা করতে।

বলকান অঞ্চলের সবচেয়ে বড় অর্থোডক্স মনেস্টারি “রিলা মনাস্টেরি”

রিলা পর্বতের প্রায় ২ হাজার মিটার উঁচুতে চারিদিকে পাহাড় ঘেরা এই রিলা মনাস্টেরি যা দশম শতাব্দীতে নির্মান করা হয়েছে। সেখান থেকে আরো প্রায় ৮শ মিটার উঁচুতে এই মনাস্টেরি নির্মানে যার সবচেয়ে বেশি ভূমিকা ছিল সেই অর্থোডক্স আধ্যাত্মিক মনিষী সেইন্ট ইভান রিলস্কি এর সমাধি অবস্থিত। সমাধির পাশেই রয়েছে এক অদ্ভুত গুহা যা “কেইভ অব পিউরিটি” হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলের মানুষের কাছে। কথিত আছে কোন পাপী মানুষ এই গুহা অতিক্রম করতে পারে না অথবা এই গুহা অতিক্রম করলে সমস্ত পাপ মোচন হয়ে যায়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল অংশগ্রহণকারী, স্টেক হোল্ডার ও ফেসিলেটর মূল বিষয়ের উপর স্ব স্ব মতামত প্রদানের পাশাপাশি ভবিষ্যতে তাদের কর্ম পরিকল্পনায় অভিবাসী ও শরনার্থীদের মূল ধারায় সংপৃক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ইউরোপের দেশ বুলগেরিয়া যদিও তেমন একটা অভিবাসী ও শরনার্থী নেই বল্লেই চলে। এখানকার অর্থনীতি ইউরোপের অনন্য দেশের চেয়ে অনেক পিছিয়ে। বর্তমানে এখানে সর্বনিম্ন বেতন ৩৫০ ইউরোর কাছাকাছি যেখানে ইউরোপে গড় সর্বনিম্ন বেতন ১ হাজার ইউরোর বেশী।

তাছাড়া দেশটি সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির সরকার ও রাজনৈতিক দল সমূহ অভিবাসনের বিপক্ষে। কিন্তু এই দেশটিকে এশিয়া এবং আফ্রিকার অনেক ইকোনমিক্যাল অভিবাসী ও শরনার্থীরা ইউরোপে প্রবেশের ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করে। ফলে প্রতি বছর অনেক অভিবাসী ও শরনার্থী দেশটির সীমান্তে আটকা পড়ে অথবা পুশ বেক করা হয়। তার কিছুটা প্রতিফলন আমরা দেশটিতে প্রবেশের সময় সোফিয়া এয়ারপোর্টে অনুভব করলাম। কেননা এয়ারপোর্টে আমাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের সম্মুখীন হতে হয়েছে।

মোঃ রাসেল আহম্মেদ। পর্তুগাল প্রবাসী লেখক ও সদস্য, বাংলাদেশ ট্রাভেল রাইটার্স এসোসিয়েশন।

0Shares

One response to “নয়নাভিরাম বুলগেরিয়ায় দিন-রাত: রাসেল আহম্মেদ”

  1. Shams says:

    Nicely written

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

একই বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2021 Chardike24.com
Site Customized By NewsTech.Com