1. masudkhan89@yahoo.com : admin :
  2. masudkhan89@gmail.com : Masud Khan : Masud Khan
  3. news.chardike24@gmail.com : চারদিকে ২৪.কম : রাইসা আক্তার
রবিবার, ২৯ মে ২০২২, ১১:৫২ পূর্বাহ্ন

বিটিভি: আজো কানে বাজে সেই শব্দ সুরের খেয়া

  • আপডেট সময়: শুক্রবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২১
  • ৪৬ দেখেছেন
বিটিভি ছিলো দর্শকদের বিনোদনের সবেচেয় বড় অবলম্বন
যেনো বায়োস্কোপের নেশা লাগা ঘোর৷
সেই আশি নব্বইয়ের দশকের কথা। বিটিভির অধিবেশন শুরু হতো বেলা তিনটায়। শুক্রবারে দুটি অধিবেশন। একটা অধিবেশন শুরু হতো সকাল ৯.০০ টায়। দ্বিতীয় অধিবেশন অন্যান্য দিন হতে আধাঘণ্টা এগিয়ে বেলা আড়াইটায়।
‘আমারও দেশের মাটির
গন্ধে ভরে আছে সারা মন
শ্যামল কোমল হরষ ছাড়া
যে নেই কিছু প্রয়োজন’
এই গানের আবহ সুর সম্বলিত স্থিরচিত্র পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু হতো অধিবেশন। এরপর পবিত্র কোরআন হতে তিলাওয়াত, তরজমা ও তাফসির। সপ্তাহে বিরতিতে প্রচারিত হতো পবিত্র গীতা পাঠ, বাইবেল পাঠ বা ত্রিপিটক পাঠ। গেরোয়া পোষাক পড়া কোনো বৌদ্ধ ভিক্ষু ‘নির্বান পরম শান্তি, নির্বান পরম সুখ, পৃথিবীর সকল প্রাণী সুখী হোক’ কামনায় শেষ করতেন ত্রিপিটক পাঠ৷ একই ভাবে ‘সব্বে সাত্তা সুখিতা ভবন্তু এই কামনায় শেষ হতো গীতা পাঠ।
মাগরিবের আযানের পর হামদ নাতে প্রচারিত ‘দুখের দিনের দরদী মোর নবী কামলেওয়ালা সহ পরিচিত কয়েকটি হামদ নাত৷ সন্ধ্যায় প্রচারিত উল্লেখ্যযোগ্য অনুষ্ঠানগুলি ছিলো আধুনিক গানের  অনুষ্ঠান মালঞ্চ, সন্ধ্যা মালতি, নিবেদন। মঙ্গলবার রাত আটটার বাংলা সংবাদের পর প্রচারিত ধারাবাহিক নাটকগুলোর মধ্যে বিখ্যাত ও বহুল প্রচারিত কয়েকটি নাটক হলো
এইসব দিন রাত্রি, ঢাকায় থাকি, মৃত্যুক্ষুধা, জোনাক জ্বলে, গ্রন্থিকগণ কহে, জলাশয় কতো দূরে, তথাপি, কোন কাননের ফুল, রূপনগর, অয়োময়, কোথাও কেউ নেই, সংশপ্তক, বহুব্রীহি, জন্মভূমি, বারো রকমের মানুষ, মফস্বল সংবাদ, ছায়া শিকারী, বাবর আলি, কুসুম, শোধ, স্বপ্নের শহর, বন্ধন ইত্যাদি। একই সঙ্গে দুইটি ধারাবাহিক নাটক প্রচারিত হতো পর্যায়ক্রমে পনেরো দিন পরপর মঙ্গলবারে৷
জনপ্রিয় সাপ্তাহিক নাটক ছাড়াও প্রচারিত হতো বিশ্ব নাটক। বৃহস্পতিবার রাত দশটার সংবাদের পর প্রচারিত হতো রূপকথামূলক নাটিকা হীরামন। রাতের প্রোগ্রাম গুলির মধ্যে জনপ্রিয় ছিল ছায়াছন্দ। রাতে প্রচারিত হতো উচ্চাংগ সংগীতের অনুষ্ঠান ‘রাগরঙ’ বা
‘সুর লহরী’৷
শুক্রবার সকালে দেখাতো পুনঃপ্রচারিত নাটক মনের মুকুরে। শিশুদের প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান
নতুন কুঁড়ি। আমরা নূতন, আমরা কুঁড়ি নিখিল বন-নন্দনে, ওষ্ঠে রাঙা হাসির রেখা জীবন জাগে
স্পন্দনে। লক্ষ আশা অন্তরে ঘুমিয়ে আছে মন্তরে ঘুমিয়ে আছে বুকের ভাষা পাঁপড়ি-পাতার বন্ধনে। সমবেত কন্ঠে গাওয়া হতো এর সূচনা সংগীত৷ মাওলানা বেলাল হোসেন ফারুকীর উপস্থাপনায় শিশুদের ধর্ম শিক্ষার অনুষ্ঠান প্রচারিত হতো৷ ধর্মীয়  অনুষ্ঠানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলো আলোর দিশারী, উজ্জীবন৷
শিশুতোষ নাটকের সংকলন ছিলো হৈ চৈ।
মাসের শেষ শুক্রবারে প্রচারিত হতো পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা ছায়াছবি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সাদা কালো ছবি প্রচারিত হতো, মাঝে মধ্যে আবার দেখানো হতো আংশিক রঙিন ছবি, পুরো ছবি সাদা কালো থাকলেও এর হঠাৎ কিছু অংশ বা গানগুলি হতো রঙিন। মাসের বাকি শুক্রবারে মুভি অভ দ্যা উইকে দেখানো হতো ইংরেজি ছবি ৷
ম্যাকগাইভার, দ্য সোর্ড অব টিপু সুলতান, আলিফ লায়লা’-বিটিভির ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হওয়া বিদেশি সিরিজ। সিক্স মিলিয়ন ডলারম্যান, ডালাস, ওশিন, দ্য ফল গাই, থ্রি স্টুজেস, দি এ টিম, মিস্টার বিন, রেভেন, দ্য মিস্টেরিয়াস আইল্যান্ড, হারকিউলিস, এক্স ফাইলস, রবিনহুড, রোবোকপ সিরিজও বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল। এর বাইরে আরো ছিলো ‘স্মল ওয়ান্ডার,’ ‘ডার্ক জাস্টিস,’ ‘স্পেল বাইন্ডার,’ ‘উইজার্ড,’ ‘টাইম ট্র্যাকস,’ ‘গার্ল ফ্রম টুমরো,’ ‘পারফেক্ট স্ট্রেঞ্জার্স’। শিশু-কিশোরদের জন্য প্রচার করা হতো কার্টুন সিরিজ। এর মধ্যে রয়েছে ‘থান্ডার ক্যাটস’, ‘লুনি টিউনস,’ বায়োনিক সিক্স’, ‘ব্যাক টু দ্য ফিউচার,’
‘জুমানজি,’ ‘গডজিলাঃ দ্য সিরিজ,’ ‘ক্যাপ্টেন প্লানেট,’ ‘টিন এজ মিউট্যান্ট নিনজা টার্টলস,’ ‘পাপাইঃ দ্য সেইলর,’ পিটার প্যান,’ ‘টম অ্যান্ড জেরি,’ ‘বানানাস ইন পাজামাস’, দ্য জাঙ্গল বুক,’ ‘সামুরাই এক্স,’ ‘উডি উড পেকারস,’ ‘কিম্বা দ্য হোয়াইট লায়ন,’ ‘জনি কোয়েস্ট,’ ‘ঘোস্ট বাস্টারস,’ ‘ক্যাসপার’ ও ‘বাগস বানি’।
এর মধ্যে বেশি জনপ্রিয় ছিলো ম্যাকগাইভার, আলিফ লায়লা, আকবর দ্যা গ্রেট, দ্যা সোর্ড অব টিপু সুলতান। ম্যাকগাইভার সিরিজটির নায়ক এংগাস “ম্যাক” ম্যাকগাইভার অত্যন্ত বুদ্ধিমান ও নানা কৌশলে পারদর্শী একজন প্রাক্তন সিক্রেট এজেন্ট। ম্যাকগাইভারের ভূমিকায় অভিনয় করেন রিচার্ড ডিন অ্যান্ডারসন। ম্যাকগাইভারের অধিকাংশ কৌশল থাকতো বিজ্ঞানের বিভিন্ন সূত্রের ভিত্তিতে, কখনও রসায়নের, কখনও পদার্থবিদ্যার। প্রতি বুধবার রাত নয়টায় প্রচারিত হতো ম্যাকগাইভার৷
বিশেষ দিনের অনুষ্ঠান বলতে ছিলো তিনদিন ব্যাপী ঈদের অনুষ্ঠান এর মধ্যে থাকতো বিশেষ নাটক, আনন্দমেলা, ব্যান্ড শো, লিপসিং, ছায়াছবি, ছোটদের অনুষ্ঠান, বগুড়া ইয়ুথ কয়ার। ছোটদের অনুষ্ঠানে সৈয়দ আব্দুল হাদির ‘চাঁদের পালকি চড়ে আসলো সবার ঘরে,’ ‘বছর ঘুরে বারে বারে ঈদ আসে ঈদ চলে যায়,’ ফেরদৌস ওয়াহিদের ‘মামনিয়া,’ ‘এমন একটা মা দেনা,’ ‘এক ছিলো টোনা আর এক ছিল টুনি, টোনা বলে ওরে টুনি পিঠা কর।’ আনন্দ মেলায় ছিল জুয়েল আইচের যাদু। ঈদের আগের রাতে কাজী নজরুল ইসলামের লিখা ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে’ গানটির সমবেত পরিবেশনা৷ আর ঈদের নাটক তো হাসির হওয়া চাই ই। বেশির ভাগ সময় আমজাদ হোসেনই আসতেন তার জব্বার আলি নাটক নিয়ে ৷
জবা কুসুম রোকন দুলালের মা আর ফরিদ আলি, জব্বর আলি নাটকের আলোচিত চরিত্র। ভেজাল করার দায়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে ঈদের দিন জব্বার আলীর জেলেতেই কাটাতে হতো, অনুতপ্ত জব্বার আলির মায়ের হাতের সেমাই খেয়ে জেলেই হতো নাটকের শেষ দৃশ্যায়ন।
স্বাধীনতা আর বিজয় দিবসের বিশেষ আয়োজনের  মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ‘জীবন থেকে নেয়া,’ ‘ওরা এগারো জন,’ ‘আলোর মিছিল’র মতো কালজয়ী ছবিগুলোর সম্প্রচার৷
প্রতিবেদনধর্মী প্রচারণার মধ্যে মাটি ও মানুষ, প্রবাহ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য৷
ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানের মধ্যে ‘যদি কিছু মনে না করেন’ এর পর সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় ছিলো ‘ইত্যাদি’৷ কথার কথা, শুভেচ্ছাও জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পেরেছিল।
নিয়মিত পরিবেশনার মধ্যে অন্যতম ছিল ফেরদৌসি রহমানের এসো গান শিখি।
গান শেখানোর সুবাদে শিশুদের কাছে তিনি ‘খালামনি’ হিসেবেই পরিচিত হয়ে উঠেন ৷
‘জাদুর পেনসিল, আহা, জাদুর পেনসিল
আমার থাকতো যদি এমন একটি জাদুর পেনসিল
তাতে যা আঁকা যায়, যদি সত্যি হতো
তবে হাতের মুঠোয় পেতাম রে ভাই বিশ্বনিখিল।
খিদে পেলে সে পেনসিলে মিঠাই মন্ডা আঁকতাম
তারপরে ভাই পেটটি পুরে খেতাম এবং চাটতাম
রসে ভরা রসগোল্লা, খাজা-গজা কালো জাম
তোমাদেরও খানিক দিতাম হয়ে দরাজ দিল।’
‘ক-এ কলা, খ-এ খাই
এতো বেশী খেতে নাই
গ-এ গরু, ঘ-এ ঘাস
কত ঘাস খেতে চাস
ঙ বলে কোলা ব্যাঙ
সারাদিন ঘ্যাঙ ঘ্যাঙ
ক খ গ ঘ ঙ….।
চ এ চোখ ছ এ ছল
চোখ দুটো ছলছল
জ এ জল ঝ এ ঝিল
কত জল ঝিলমিল
ঞ বলে মিয়া ভাই
ভয় নাই ভয় নাই
চ ছ জ ঝ ঞ।’
‘ছোট্ট কণা থেকেই তো হয়
গোলাপী মুক্তো,
তিলে তিলে গড়েই তোলে
তাকেই ঝিনুকতো…
দেহের কোথাও আটকে গেলে
বালু কিনবা ওমনি কিছু
ঝিনুক তাকে রুখতে তখন
যায় লেগে ভাই ভীষণ পিছু
বলে দেখি সাহস কেমন আছে
একটু এগুকতো…’
‘রাঙা বউ মাছ কোটেরে হে
উঠানে বসিয়া হা
রকম রকম মাছ কোটে বটিতে ফেলিয়া বউ মাছ কোটে রে…. ‘
‘আইলো দেয়া ঈশানে, সকালে কি বিকেলে মাঠে ঘাটে নামলো পানির ঢলরে নামলো পানির ঢল… ঐ ঝিলে বিলে ঢেউ খেলেরে ছলাত ছলাত ছল৷’
‘তিমি মাছের নাম তো জানো, জানো কি তার পরিচয় নামটা তিমি মাছ হলেও আসলে সে মাছ নয়…….’
এগুলো ছিলো এসো গান শিখির পরিচিত গান আর সাথে ছিল কার্টুন মিঠু ও মন্টির ন্যাকামি। ‘ভরা নদীর বাঁকে’ নামে পল্লী গানের একটি অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করতেন মোস্তফা জামান আব্বাসী। অনুষ্ঠানের বাইরে এই সময়ের প্রচারিত বিজ্ঞাপনগুলিও হয়ে আছে কালের স্বাক্ষী৷
মাঝে মাঝে কোনো অনুষ্ঠান দেখার সময় টেলিভিশনের রিল চলে যেত। রঙিন টানের বেশ কয়েকটি রেখা আর বিরক্তিকর কানে ধরা শব্দ৷ কিছুক্ষণের মধ্যেই রিল ফিরে এসে সম্প্রচার স্বাভাবিক হয়ে যেতো।
আর এখন স্মৃতির বেড়াজালে সেই সব রঙিন দিনগুলোর উচ্ছাসটা আজও কানে বাজে।
0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published.

একই বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2021 Chardike24.com
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট @ ইজি আইটি সল্যুশন