1. masudkhan89@yahoo.com : admin :
  2. masudkhan89@gmail.com : Masud Khan : Masud Khan
  3. news.chardike24@gmail.com : চারদিকে ২৪.কম : রাইসা আক্তার
বুধবার, ২৫ মে ২০২২, ১২:২২ পূর্বাহ্ন

আফরাজুর রহমানের তুমুল ভালোবাসা সিরিজের কবিতা

  • আপডেট সময়: সোমবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২১
  • ১৭৮ দেখেছেন
ভালোবাসা হবে প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার অন্ন-বস্ত্র-শিক্ষা-বাসস্থানের মতো।
ভালোবাসা নিও তুমুল 
(০১)
হৃদয়ে ঝড় উন্মূল
ভালোবাসা নিও তুমুল।
জল-জোছনার শহরে বর্ষার বৃষ্টির মতো
অঝোর ধারা ভালোবাসা
আষাঢ় -শ্রাবণের আফাল তুফানের মতো
উথাল-পাথাল ভালোবাসা
হাওড়ের ঢেউয়ের মতো
উত্তাল ভালোবাসা
অথবা, পড়ন্ত বিকালের সোনালী রোদের মতো
নরম কোমল ভালোবাসা।
তোমার পছন্দ মতো ভালোবাসা নিও।
বিনিময়ে একটু আলো, একটু ছায়া দিও।
১৭ মে, ২০২১
(০২) 
চাঁদের আলোয় প্রেমের গল্প
তুমি তো আকাশের চাঁদ
আর আমি মাটির পৃথিবীতে,
তোমাকে ছোঁয়ার সাধ
মনে হতো যেনো কল্পনার  অভিলাষ।
ভেবেছি মাঝে মাঝে মেঘেরও তো ইচ্ছা হয়
আলো ছড়াবার, অমানিশার ঘোরে
ফাঁকে ফাঁকে, বিদ্যুতের ঝলকে।
অবুঝ এ হৃদয় তাই তোমাকে খুঁজেছে কাছে
দশকের সাধনায় হৃদয়ে সৃজিত স্বপ্নের রাজকুমারী
অবশেষে বাস্তব হয়ে কড়া নাড়ে হৃদ-মন্দিরে।
তুমি এলে ঝড়ো হাওয়ার মতো
তাঁতের  শাড়ি পরা, দীপ্ত পদক্ষেপ ;
চকিত গ্রীবা ঈষৎ কম্পিত।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর—-
তোমাকে দেখার অনির্বচনীয় আনন্দে শিহরিত আমি।
যদিও জানি,  কালবোশেখীর কালো থাবায়
কিছু দিন চাঁদ ছিল আড়ালে
অবশেষে শুভক্ষণে রাহুমুক্তি হলে
আমাদের অনিবার্য ভ্রমণ চাঁদের কক্ষপথে।
নীল কক্ষপথ থেকে চেয়ে দেখো–
কেমন আচ্ছন্ন পুরো পৃথিবী তোমার মায়ায়।
জোছনায় প্লাবিত জনপদ
শহর বন্দর গ্রাম
হিজল করচের বন;
পৃথিবীতে শুধু তোমার আর আমার ছায়া
মিলেমিশে একাকার,  কেমন মায়াময়।
তারপর চাঁদের আলোয় ছুঁয়েছি তোমাকে।
জোছনা ধারায় হাতে রেখে হাত, করেছি শপথ
“যে আমার, আমি তার”
আমৃত্যু বন্ধন হবে তোমার আমার।
তোমার কথার উত্তাপ ক্রান্তীয় ঝরনার ঈষদুষ্ণ জল।
হঠাৎ পাওয়া তোমার আলোয়
দিশেহারা,  ঝলসিত এ হৃদয়।
কি করে যে সামলাই তুমুল ভালোবাসায় তোমাকে!!
২৮ মে, ২০২১
(০৩)
এজেন্ডা- ২০৫০
ভাবছি, সংসদে একজন প্রতিনিধি পাঠাবো।
জনগনের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি।
তিনি আমাদের হয়ে একটি দাবী তুলবেন সংসদে-
সংবিধানের প্রস্তাবনায় দু’টি শব্দ যোগ করতে হবে
”তুমুল ভালোবাসা”
ভালোবাসা হবে প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার
অন্ন-বস্ত্র-শিক্ষা-বাসস্থানের মতো।
তারপর আমরা দু’জনে যাব জাতিসংঘে
শুধু তুমি আর আমি।
ধরে নাও, লম্বা ফ্লাইটেই যাব। সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের।
চাঙ্গি থেকে প্রশান্ত মহাসাগরের কোল ঘেঁষে ঘেঁষে নিউ জার্সি।
একটানা ১৮ ঘন্টার ফ্লাইট।
দীর্ঘ ভ্রমনে নতুন করে অভিষেক হবে আমাদের পুরোনো তুমুল প্রেমের।
তুমি বসবে জানালার পাশে
নীল আকাশে ভাসমান শুভ্র পেঁজা তুলোর কাছে
আমি তোমার পাশে
হাঁটু গেড়ে প্রতি ন্যানো সেকেন্ডে তোমার জন্য নিবেদিত।
আমাদের অদ্ভূত, অতুল ভালোবাসা দেখে মুখ টিপে হাসবে
সুন্দরী বিমানবালারা।
আমরা যাচ্ছি, নিউ ইয়র্ক শহরের ম্যানহাটানে
টাইম স্কোয়ার পেরিয়ে
ইস্ট রিভারের ধারে
জাতিসংঘ সদর দফতরে।
সেখানে বিশ্বের তাবৎ রাষ্ট্রনেতাদের সামনে
তুলে ধরব আমাদের দ্বিধাহীন এজেন্ডা-
এজেন্ডা: টুয়েন্টি ফিফটি (২০৫০)।
পৃথিবীর সকল মানুষকে ”তুমুল ভালোবাসতে হবে”।
প্রাচীন সভ্যতার ঐতিহ্যবাহী এশিয়ার মানুষ
উইঘুর কিংবা জিনজিয়াংয়ে অথবা ঝিলাম উপত্যকায়
আফ্রিকার কালো মহৎ মানুষ আর ইউরোপের সাদা মানুষ
ক্যারিবিয়ান বা ল্যাটিন আমেরিকান সকলকে।
সকল মানুষকে তুমুল ভালোবাসতে হবে।
কেউ ভালোবাসাহীন থাকবে না
কেউ হিংসার আগুনে পুড়ে মরবে না।
কোনো ’আইলান’ সাগরের জলে ভাসবে না
ভূমধ্যসাগরে, বঙ্গোপসাগরে কিংবা নাফ নদীতে।
কোনো শিশু বুলেটের আঘাতে মরবে না
ল্যাভান্টে, কাবুল-পেশোয়ারে কিংবা জলপাই-যাইতুন বনে।
আমাদের দাবি, জাতিসংঘের মানবাধিকার সনদের
মুখবন্ধের শিরোনাম হবে ”তুমুল ভালোবাসা”।
আমাদের রুদ্ধশ্বাস তুমুল ভালোবাসা ছড়িয়ে পড়বে সবার মাঝে
এক স্বপ্নের ভালোবাসার পৃথিবী গড়ে তুলব আমরা দু’জনে মিলে
পৃথিবীর সকল অনাগত মানুষ জানবে আমাদের নাম।
২৪ জুন, ২০২১
(০৪)
(অনু কবিতা)
বুক ভাসাই
তুমি তো আমায়
কাঁদতে বারণ করো
বিষাদ-বিরহে মানা করো;
আমি না কেঁদে কি পারি বলো?
আমার এত সুখ!
তুমি যে আমায় ভালোবাসো!!
তুমি আমায় যত গালি দাও
সুখে আমার বুক ভাসাও।
তোমার কন্ঠের সুরভী ঝরে
আনন্দে আমার জ্যোতিতে
 আযাঢ়-বাদল নামে।।
আমি তাই
নিজেকে হারাই
তুমুল তোমার ভালোবাসায়।
আমি তাই
বুক ভাসাই
তুমুল সুখের কান্নায়।।।
০১ জুলাই,  ২০২১
(০৫)
রাজকুমারীর সাথে ত্রিশ মিনিটের ভ্রমণ
ক্যালেন্ডারে দাগ টানাই ছিল, তুমি আসবে।
কিন্তু, দুর্ভাগ্য আমার
হঠাৎ করেই ঈশান কোণে ঝড়ের পূর্বাভাস
সামান্য ভুলে, তোমার অভিমান-কান্নাকাটি
হলো ঈষৎ বৃষ্টি-বাদল, ঝগড়াঝাটি।
অভিমানের ঝড়ো হাওয়া শেষে
অনুমোদন এল; তোমার সাথে কথা হবে সাক্ষাতে
আমার অন্ধ-মুগ্ধ প্রেম দিশা পেলো দিনের আলোতে।
নিদ্রাহীন রাত কাটিয়ে
সকল দ্বিধার আগল ভেঙে
ছুটে গেলাম তোমার আহবানে
যেমন স্রোতের টানে নদী চলে সাগর পানে ।
ভোরের প্রার্থনার মতোই ঊষা জাগরণ
অভ্যাস তোমার, নিত্যদিন।
তুমি প্রস্তুতই ছিলে, নেমে এলে যান্ত্রিক সিঁড়ির ভেতর থেকে
এক রাজকুমারী, রাজকুমারীর সাজে
তোমার দ্বিধাহীন দীপ্ত শাড়ির ভাঁজে
শীলিত-শালীন আভিজাত্য যেনো ঝরে
পিঙ্ক জামদানি হেসে ওঠে শত বছরের ঐতিহ্য নিয়ে।
তোমাকে দেখে হেসে উঠলো সকালের নরম রোদ
বর্ষা-ভেজা সবুজ পাতা তোমাকে স্বাগত জানালো
দক্ষিণা মৃদু-মন্দ বাতাস মুগ্ধ আবেশে
তোমাকে সাদরে তুলে নিল আমার পাশে।
সবকিছু স্বপ্নের মত, স্বপ্নের চেয়ে কিছু বেশি
যুগের বিনির্মাণ অবশেষে পেলো স্বীকৃতি।
অতঃপর আমাদের যাত্রা হলো শুরু
তোমাকে নিয়ে বিশ্বভ্রমণ; দক্ষিণ গোলার্ধ থেকে উত্তর গোলার্ধ।
সমুদয় ঢাকা শহর তখন উন্মুখ হয়ে দেখছে তোমাকে
মননে, প্রজ্ঞায় প্রোজ্জ্বল; মেধার আলোকে ঝলমলে
প্রত্যয়ী এক রাজকুমারীকে।
এশিয়াটিক সোসাইটি, শিক্ষাভবন আর হাইকোর্ট পেরিয়ে
গাড়ী যখন পার্কের সামনে-
পুরো রমনা-নিসর্গ তোমাকে অভিবাদন জানালো অবাক-বিস্ময়ে
আমার প্রিয়তমা বলে;
আষাঢ়ের নীপবনে তখন অজস্র ফুলের সমারোহ।
২০ মিনিটের ভ্রমনে অপার, অসীম মুগ্ধতা;
মাঝপথে দুর্দান্ত এক সৌভাগ্যের সাথে হলো দেখা।
ধন্যবাদ, প্রিয় এ শহরের ট্রাফিক আর সিগনালকে
পাঁচ মিনিটের পথ পার হলাম ২০ মিনিটে।
তারপর তোমার আলতো পরশ, একটু ছোঁয়া
ছোঁয়া তো নয়, যেন কষ্টি পাথর
যেন সুগন্ধি ফুল, গোলাপ আতর
তুমি যে এক স্বপ্ন-কন্যা
শতজনের মাঝে এক-অনন্যা।
পথভোলা সমাবেশের কোলাহল পেছনে ঠেলে
তুমি আবার এলে মধ্যাহ্ন বিরতির পরে
মোহাম্মপুরের ইকবাল ক্যাটারার্সের লাঞ্চ প্যাকেট
মধ্যাহ্ন ভোজনে ভাগ হলো দু’জনে অর্ধেক অর্ধেক।
এই প্রথম মুখোমুখি বসা-
অমৃত কথার ফুলঝুড়ি ছড়িয়ে
তোমার মাধুর্যে যাই হারিয়ে;
তোমাকে দেখার তৃপ্তিগুলো প্রশান্তি হয়ে ঝরে
যেন স্বচ্ছ শুদ্ধ শিশির সকালবেলা।
আমি পরম মুগ্ধতায় তোমাকে দেখি
তোমার নাকফুল, কবরীর অনন্য বাঁধন
তোমার মরাল গ্রীবায় হারায় এ মন।
তোমার হাতের কনক-শোভা;
তোমার গ্রীবা যেনো চন্দ্রকলা
কন্ঠার গোলকে আলোর খেলা
আমার ওষ্ঠাধরে অধৈর্য্য তুমুল ভালোবাসারা করে অস্থির আয়োজন;
তোমার ঠোঁটের রঙে রাঙাতে এ মনন।
দীর্ঘাঙ্গী তুমি ব্যতিক্রমী সৌন্দর্য্যের আঁধার
স্বপ্নের চেয়ে অধিক পাওয়া, তুমি যে আমার।
অবশেষে, তোমাকে বিদায় দেবার পালা
আরো ১০ মিনিটের ভ্রমণ তাই গোধুলি-বেলা।
শহরের প্রাচীন অংশে উদয়াচলে তোমার বাস
স্বর্গের অপর নাম তোমার এ প্রশান্তি নিবাস;
দিন-মাস পরে এই পথেই আসব আবার
এ আশায় সময় হলো বিদায় নেবার।
হাত নেড়ে তুমি জানালে আন্তরিক বিদায়
তোমার করতলে আমার এ সিক্ত হৃদয় হারায়।।
০৮ জুলাই, ২০২১
(০৬)
(রম্য-প্যারোডি)
প্রিয় গালিব
প্রিয় গালিব, আষাঢ়ের শেষ দিনের শুভেচ্ছা নিও।
তোমার সঙ্গী-সাথীদের আষাঢ়-সিক্ত নরম মাটির সোঁদা গন্ধ দিও।
আশা করি, ভালো আছো; মন্দ না।
তোমার ভালো থাকাই আমার একান্ত কামনা।
তোমার খবর নিতে সেদিন গিয়েছিলাম, ‘সুরঞ্জণা’র কাছে।
গিয়ে দেখি; নতুন প্রেমের ‘প্রশান্ত উঠানে’-
‘ভালোবাসার অভিধান’ নিয়ে সে ব্যস্ত।
তোমার অবহেলায় তকীর সাথে মজা-মাস্তি
নতুন পান্ডুলিপিতে খুব মত্ত; ভীষণ সে মজেছে।।
তোমার কথা বলায়- সে তো রেগে আগুন;
শুধু আমাকে ’তুমুল শুভেচ্ছা’ জানিয়েছো-
এই কথা শুনে তা বেড়ে হলো দ্বিগুণ।
কি হয়েছিলো তোমার? ‘তার সাথে, তাহার সাথে?’
প্রিয় গালিব,
পরমাকে হারিয়ে চরম খরায় ভুগছ জানি
হিংসা-রিরংসায় পুড়ছে অন্তর, তাও মানি;
কুটিল ভনিতায় লেখো তাই  ব্যর্থ প্রণয়ের কাহিনী,
উদ্ধার করতে লাগে ’গবেষক’ রিভিউয়ার বাহিনী।
তুমি তো বিদগ্ধ কবি
তোমার কবিতায় মুগ্ধ কত ভক্তকুল
তোমাকে কি মানায়  এসব?
হিংসায়, প্রতিহিংসায় গীবতের বিষাক্ত ধুতুরা ফুল?
প্রিয় গালিব, শুধু আমাকে নয়,
দু’জনকেই তুমুল ভালোবাসা দিও;
যুগলের জন্য তুমুল ভালোবাসা।
সুরা-সাকিতে মত্ত তুমি-
তোমার কাছে এটুকু কি করতে পারি আশা?
মনে করো, আমাদের থেকেই শুরু হবে ভালোবাসা বন্ধনহীন
একটাই পৃথিবী, একটাই জীবন
একটাই হবে ভালোবাসা, দুজনে গড়ব অমলিন।
একজনকে নিয়েই হবে আমার বিশ্বভ্রমণ
প্রথমেই যাব পোখারা
হিমালয়ে সূর্যোদয় দেখব;
দু’জনে তুমুল আত্মহারা।
১৫ জুলাই, ২০২১
0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published.

একই বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2021 Chardike24.com
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট @ ইজি আইটি সল্যুশন