1. masudkhan89@yahoo.com : admin :
  2. masudkhan89@gmail.com : Masud Khan : Masud Khan
  3. news.chardike24@gmail.com : চারদিকে ২৪.কম : রাইসা আক্তার
রবিবার, ২৯ মে ২০২২, ১০:৩০ পূর্বাহ্ন

অপ্রাপ্তির শান্তনা: আল মামুন জাহানগীরি

  • আপডেট সময়: মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারী, ২০২২
  • ৮৫ দেখেছেন
আমাদের সন্তানের মৃত্যুতে অনেক কষ্ট হলেও আমরা ধৈর্য্য ধরেছিলাম
আল্লাহর দানকে বর্ণনা করে শেষ করা কারো পক্ষে সম্ভব নয়। তাঁর সৃষ্ট  যত উপকার পেয়েছি তার সংখ্যাও অসংখ্য। কিন্তু অপ্রাপ্তুির সংখ্যাও কম নয়। তার কয়েকটির উল্লেখ করলাম।
১.সহকারী অধ্যাপক
নোয়াখালী কলেজের গনিতের সহকারী অধ্যাপক তরফদার সাব বদলী হয়ে মহসিন কলেজে যোগদান করতে এসে আমাকে জানাল যে আমাকে চট্টগ্রাম কলেজে সহকারী অধ্যাপক হিসাবে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। পদোন্নতি পত্র আনার জন্য শিক্ষা ভবনে গিয়ে অফিস সহকারীর সাথে দেখা করলে তিনি অবাক হয়ে বলেন, আপনি এত বছর চাকরী করেছেন আপনাকে তো কোনদিন দেখিনি।ভাবখানা যেন তাদের সাথে দেখা করা দায়িত্বেরো মধ্যে পড়ে। শোনেছি অনেকে নাকি তাদের কর্মস্থলকে দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য অথবা কাক্ষিত স্থানে পদোন্নতি নেবার জন্য অফিস সহকারীদের নিয়মিত যোগাযোগ রেখে খুশি রাখেন। সেই অফিসে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গনিত বিভাগে এক সাথে পড়েছি মুরশিদের সাথে দেখা।তার কাছেই শোনতে পেলাম অপর সহপাঠক সামছুল হক সিলেটে কোন এক কলেজে যোগদান করে শিক্ষা অফিসকে না জানিয়ে লন্ডনে চলে যায়।আর শিক্ষা অফিস অজ্ঞতা বশত: তার অনুপস্থিতিতেই আমাদের সাথে তাকে পদোন্নতি দিয়ে দেয়। এ নিয়ে মুরশিদের ভাবনার শেষ নেই,সে লন্ডন থেকে কিভাবে যোগদান করবে।তার এই উৎসাহকে নিবৃত্ত করার জন্য সে সহকারী পরিচালকে জিজ্ঞেস করতে অনুরোধ করে।পত্র হাতে পেয়ে আমাদের সাথে সামসুল হকের নাম দেখতে পেয়ে বোকার মত আমি তাঁর কাছে লন্ডন থেকে কিভাবে যোগদান করবে জানতে চাইলে তিনি বিব্রতবোধ করেন ও আমার কাছ থেকে পত্রটি প্রায় ছিনিয়ে নিয়ে বলেন, আজ আপনারা চলে যান,কিভাবে এমন ত্রুটি হল তা জেনে সংশোধিত পত্র কলেজে পাঠিয়ে দেয়া হবে।অগত্যা আর কি করব, আমার বন্ধু নাজমুল হোসেনকে খোঁজ নিয়ে আমাকে জানানোর অনুরোধ করে ফিরে আসলাম। হোসেন ভাই প্রায় প্রতিদিন খোঁজ নিয়ে বিফল হয়ে ফিরে আসেন।সেই আদেশ আমার হস্তগত হয় দুইমাস পরে। এদিকে জীববিজ্ঞানকে ভেঙ্গে উদ্বিদ বিজ্ঞান ও প্রানী বিজ্ঞান এবং বানিজ্য বিজ্ঞানকে ভেঙ্গে হিসাব বিজ্ঞান ও ব্যবস্থা বিজ্ঞান সৃষ্টি করে অতিরিক্ত পদ সৃষ্টির ফলে তাদের পদোন্নতি এগিয়ে আসে।ফলে এরই মধ্যে ঐ সব বিভাগের অনেকে যোগদান করে ফেলেন বলে আমি জুনিয়র হয়ে যাই। তখন একটা অদ্ভুত নিয়ম প্রচলিত ছিল- যে সহকারী হিসাবে আগে যোগদান করল পরবর্তী সব ক্ষেত্রে সিনিয়র হিসাবে সেই বিবেচিত হত।
২.বিড়াম্ভনা-
আমি যখন অধ্যাপক পদমর্যাদার নোয়াখালী কলেজের উপাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছি তখন প্রফেসর পদে সদ্য পদোন্নতি প্রাপ্ত এক অধ্যাপক নোয়াখালী কলেজে যোগদান করলেন।  চট্টগ্রাম হাজী মহসিন কলেজে কিছুদিন এক সাথে কাজ করেছি বলে শুভেচ্ছা আদান প্রদান আন্তরিকতার সাথেই হল তাঁর সাথে। সম পদমর্যাদায় আমি উপাধ্যক্ষ আর তিনি বিভাগীয় প্রধান। তাই কাউকে কেউ ছোট পদ মর্যাদার ভাবার সুযোগ নেই।আর আমি কলেজের দ্বিতীয় ব্যক্তি ভাবা তো দূরের কথা প্রভাষক  এমন কি ডেমোনেষ্টেটরদেরকে  সম্মানিত সহকর্মী মনে করি।  যার যার যার অবস্থানে থেকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে অন্যত্র ।উপাধ্যক্ষের অন্যতম দায়িত্ব হচ্ছে পাঠদান নিরবিচ্ছিন্নভাবে অনুষ্ঠিত হবার লক্ষে প্রত্যেক শিক্ষকের কলেজে উপস্থিতি তদারকী করা। কিন্তু বার্ধক্যে উপনীত হয়ে সুদূর চট্টগ্রাম হতে নোয়াখালীতে এসে উপস্থিত থাকা সম্ভব নয়। বিভাগীয় প্রধানরা তাঁর বিভাগের অন্যান্য সহকর্মীদের মধ্যে ক্লাশ বন্টন করে নিয়মিত ক্লাশ চললে আমর আপত্তি করার নেই। কিন্তু অধ্যক্ষের দাবী সকল শিক্ষককে কলেজে উপস্থতি বাধ্যাতামূলক । তাই তাও নিশ্চিত করতে হবে। তাই উক্ত অধ্যাপকের দীর্ঘ অনুপস্থিতিকে অনিচ্ছাকৃতভাবে অধ্যক্ষের নজরে আনতে হয়েছে। এ নিয়ে কি হয়েছে জানিনা। একদিন অধ্যক্ষ মহোদয় একবার শিক্ষাভবন থেকে ফিরে এসে হাসতে হাসতে বললেন,উক্ত অধ্যাপক নাকি মহাপরিচালকের কাছে গিয়ে সটান হয়ে শুয়ে পড়ে বলেছিলেন” আমাকে নোয়াখালী কলেজ থেকে বদলী না করা হলে আমি এখান থেকে আর যাব না।” এই ঘটনা শোনে আমি অত্যান্ত ব্যথিত হয়েছিলাম। এই ঘটনার কারনে কিনা জানি না,তিনি বদলী না হলেও আমাকে বদলী করা হয়েছিল প্রত্যন্ত অঞ্চলে অধ্যক্ষ হিসাবে।এভাবেই সেই অস্বস্থিকর অবস্থা হতে পরিত্রান পাই।
৩.আবাসন:-
ক) মেজ শ্যালক তৌহিদুল ইসলামের বিয়ে ঠিক হয়েছে। সে নিজে আমাদেরকে নিতে এসেছে।কিন্তু আমার ছুটি না থাকাতে কোলের শিশু নিমুনকে নিয়ে স্ত্রী তার সাথে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হল, আমি বিয়ের দিন তাদের সাথে যোগ দিব। ট্রেনে করে ঢাকা যাওয়ার পথে আমার স্ত্রীর বিয়ের সব শাড়ী চুরি হয়ে গেল। বাচ্চাসহ তারা সুস্থ আছে জেনে শান্তনা পেলাম। বিয়ের দিন সকালে কমলাপুর রেল ষ্টেশন হতে বরযাত্রীরা ময়মনসিং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেবে। রেলের একটা বগি রিজার্ভ করা হয়েছে। ঢাকাতে তখন ষষ্ঠ বোন আশাপার বাসাছাড়া আর কোন ভাই- বোনের বাসা ছিল না। সেখানেই সবায় ঠাসাঠাসি করে রাত্রি যাপন। তখনই সবায়  গভীরভাবে উপলব্ধি করে যে ঢাকাতে সবারই মাথা গোঁজার মত একটা ঠাঁই থাকা চাই। এ উপলব্ধির জের হিসাবে উত্তরায়  পঞ্চম জেঠস   অধ্যাপিকা সুরাইয়া বেগম, বড় শ্যালক প্রকৌলী শহীদুল ইসলাম ও তার জেঠস অধ্যাপিকা মাহমুদা খানমের সাথে আমাদের জমি কেনা হয়। আশা আপার তত্ত্বাবধানে কয়েক বছর ভালই চলছিল। তারপর বিক্রেতারা অস্বাভাবিক আচরন শুরু করে। এতে সন্দেহের উদ্রেক হলে আমরা সবাই সংঘবদ্ধভাবে তেজগাঁওস্থ ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের যাই। সে অফিসের বড় কর্মকর্তা আমার চাচাত বোনের স্বামী জহিরুল ইসলা। সেখানে পৌঁছা মাত্র তার নির্দেশে ভূমি রেকর্ডে CS  – আমাদের নাম দেখতে পেয়ে উৎফুল্ল হয়ে উঠি। জহিরের পরামর্শে  টিকাটলিস্থ ভূমি অফিসে গিয়ে দেখতে পেলাম আমাদের নাম RS এ নেই। কর্তব্যরত মেজিষ্ট্রেট আমাদেরকে জমির দখল পেতে হলে কোর্টের শরনাপন্ন হতে পরামর্শ দিলেন।চট্টগ্রাম থেকে এই দীর্ঘ মেয়াদী কেস চালাতে কেহ উদ্যোগ নেয় নি। শোনেছি সেখানে বহুতল বিশিষ্ট ভবন নির্মিত হয়ে বানিজ্যিক ভবন হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
খ)  আমার এক আত্মীয় বিদেশে উচ্চতর শিক্ষার জন্য নির্বাচিত হল। কিন্তু সময় স্বল্পতার জন্য তার অবিভাবকের পক্ষে এত টাকা জোগার করা কষ্টকর হচ্ছিল। তখন আমি কিছু টাকা দিতে সক্ষম হয়েছিলাম। বিনিময়ে তিনি রাজারবাগে কেনা জমিটি হস্তান্তর করেন। মূল বিক্রেতা জমিটি চাষাবাদ করে তার ফসল আমাকেও দিত। বহুদিন পরে বিপত্তি ঘটালো তার সহোদর ভাই। তিনি ঢাকার  ওয়ার্ড কমিশনার। শহরে বাড়ী- গাড়ী করে বিরাট প্রতাপশালী। আমাদেরকে ফসল দেয়া বন্ধ করে দিয়ে জানাল যে জমিতে আমরা যেন আর না যাই। আরো প্রস্তাব দিল যে, জমির টাকা ফেরত নিয়ে যেন জমিটি তাঁকে লিখে দেই। অগত্যা আর কি করা? জলেতে বাস করে তো কুমিরের সাথে ঝগড়া করা যায় না, পানির দামে জমিটি লিখে দেয়া হল। এভাবে আমি আর জমি কিনার কথা বাদ দিলাম। শোনেছি সে জমি রাজুক অধিগ্রহণ  করে পূর্বাচলের অন্তর্ভুক্ত করেছ। জমির মালিকদেরকে বিনিময়ে প্লট বরাদ্দ দিয়েছে। রাজুকের প্লট পাওয়া তো সোনার হরিন পাওয়ার মত। প্লট প্রাপ্তরা নিজ অর্থে বাড়ী বানাতে না পারলে, ডেভলাপারদের দিলে বিনা অর্থে, বিনা আয়েসে কয়েকটি ফ্লাটার এমনিতেই মালিক হয়ে যেতাম।
গ) প্লট কেনা :- সরকারি ফ্ল্যাট কিনার জন্য উঠে পড়ে লাগলাম।গণপূর্ত বিভাগের হাউজিং সোসাইটি কতৃক মিরপুরে নির্মিতব্য ফ্ল্যাটের জন্য যথারীতি দরখাস্ত করলাম। ফরমে দেখতে পেলাম ঢাকাতে জমি বা বাড়ী নেই এরূপ অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মচারীর ক্ষেত্রে প্রাপ্যতার চান্স ৯০%  উপরে । গণপুর্ত বিভাগের মাননীয় মন্ত্রীর উপস্হিতিতে যথারীতি লটারী ড্র এর মাধ্যমে ফ্ল্যাট বরাদ্দ হল। কিন্ত ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, আমার নাম ড্রতে নাকি উঠে নি। খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম সেই অফিসের একজন সহকারী একাই দুটি ফ্ল্যাট পেয়েছে। শুনেছি, এই ড্র নাকি শুভঙ্করের ফাঁকি, যা হাতে হাতে পেলাম।
৪.সন্তানের মৃত্যু-
আমাদের তৃতীয় বাচচাটি হবার সময় আমার স্ত্রী খুবই অসুস্থ হয় পড়ে। সে সময়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল্ ৫ জন আত্মীয় কর্মরত ছিল । সিজারের জন্য প্রয়োজনীয় ঔষধ সংগ্রহের জন্য তারা আমাকে তাড়া দিল। স্ত্রীর এই সংকটময় অবস্থায় আমাকে সাহায্য করার মত কেউ আমার পাশে ছিল না। ৬ তলা হতে নামা-উঠার জন্য লিফটের অপেক্ষা করার ধৈর্য আমার ছিল না।ফলে বারবার দৌড়িয়ে দৌড়িয়ে সিঁড়ির ভাঙ্তে হয়েছিল।একবারে সব কিছুর চাহিদা না দিয়ে কয়েকটা কয়েকটা তালিকা দেয়াতে বারবার আমাকে যেতে- আসতে হয়েছে। স্বাভাবিক ডেলিভারি নাকি সিজার এই সিদ্ধান্তে নিতে দেরি হবার কারণে দীর্ঘ সময় অভুক্ত থাকার কারনে আমার স্ত্রী ক্রমশ: দুর্বল হয়ে পড়ে। স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে পুত্র সন্তান জন্ম গ্রহন করলেও নব জাতকের প্রচন্ড শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল।ফলে সবাই তাকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।এদিকে অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরনের কারণে স্ত্রী আমার মরনাপন্ন। তখন সেখানে উপস্থিত হয়ে এক বন্ধু স্ত্রী (নিপার আম্মা) নার্সদের ডেকে এনে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। সারা রাত বাচ্চাটি শিশু ওয়ার্ডে  নিপার আম্মার তত্ত্বাবধনে ছিল। সেখানে অক্সিজেন সরবরাহ ছিল অপ্রতুল। একটি সিলিন্ডার কয়েকটি শিশুর মধ্যে পালাক্রমে ব্যবহার করা হত। সকালে তার দেখাশোনার দায়িত্ব পড়ল আমার উপর। দেখলাম বাচ্চাটির সব দেহে ইন্জেকশন ফুটানোর চিহ্ন। অক্সিজেন সরবরাহের স্বল্পতার কারনে আমারই সামনে  জন্মের ১৬ ঘন্টা পরে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করে বাচ্চাটি। বাচ্চার মা অন্য ওয়ার্ডে ছিল। এত কষ্টের বাচ্চাটিকে বাঁচান গেল না- এ দুসংবাদ তাকে দিতে হল। হাসপাতালের তাদের একটি ফুটফুটে ভাই  হয়েছে শোনে দুই বোন আনন্দে আত্মহারা।তাদেরকেও তাদের ছোট ভাইয়ের মৃত্যু সংবাদ দিতে হল। মিসকিন শাহ মসজিদে তার জানাজা হল। ইমাম সাব তার নাম রাখল আবদুল্লাহ। মিসকিন শাহ মাজারের তাকে সমাহিত করা হয়।১৯৮৩ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অক্সিজেনের অভাবে শিশু মৃত্যুকে কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না।
৫. ইতিহাস  সম্মেলন-
খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালনকালে নকল ও ছাত্র রাজনীতির পঙ্কিলতা হতে মুক্ত থাকতে পারার কারণে আল্লাহর শোকরিয়া আদায় করছি। তবে আমি শিক্ষার্থীদের  নানা রকমের পাঠ্য বহির্ভূত কার্যক্রমকে উৎসাহ দিতে সচেষ্ট ছিলাম। উক্ত কলেজটি দেশের এক প্রান্তে বলে আঞ্চলিক পাঠ্যক্রম বহির্ভূত কর্মকান্ড পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হত না। তাই ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় এ ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হত। একদিন ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক মো: শওকত হোসেন ইতিহাস সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তাব করলে মনের উৎফুল্লতা চেপে রেখে প্রশ্ন করলাম, এরূপ একটি বিরাট অনুষ্ঠান আপনার একার পক্ষে সামাল দেয়া কি সম্ভব? জবাবে  তিনি বললেন,“ আমি একা নই স্যার, সব সহকর্মীরাই আমার সাথে আছেন। তখন আমি বললাম, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আপনারা এই কলেজ থেকেই নয় বরং গোটা জেলা থেকে নকল উচ্ছেদ করেছেন । আপনাদের তারুণ্য দিয়ে যে কোন চ্যালেঞ্জকে মোকাবেলা করতে পারবেন বলে আমি আস্থাবান। তবে এই কলেজের ঐতিহ্য রক্ষায় সম্মেলনে কোন প্রকার রাজনৈতিক আলোচনা হতে পারবে না এই শর্তে আয়োজনের অনুমতি দিতে পারি। তখন শওকত সাব এরূপ কিছু না হবার জোর নিশ্চয়তা দান করলেন।
আমার সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষনে ইতিহাস সমিতির সভাপতি মুনতাসীর মামুন যে বক্তব্য রেখেছিলেন তার সার সংক্ষেপ হচ্ছে:- ইতিহাস বিভাগ থাকতে ইসলামের ইতিহাস বিভাগ অপ্রয়োজনীয় , তাই অবিলম্বে তার বিলুপ্তির জোর দাবি ,ইত্যাদি । তাঁর বক্তব্যে ইসলাম বিদ্বেষ নিদারুনভাবে ফুটে উঠেছিল। তিনি হয়ত ভেবেছিলেন অমুসলিম অধ্যুষিত  এলাকায় এরূপ মন্তব্য বাহবা পাবে।   কিন্তু প্রতিক্রয়া লক্ষ্য করলাম তার ঠিক উল্টো।কারন মুসলমান নামধারী কোন ব্যক্তির মুখে ইসলাম বিরোধিতা অমুসলিমদেরকেও হতবাক করে। গুনি ইতিহাসবিদদের সমাবেশে পন্ডিত ব্যক্তিদের সুমধুর বাণী শোনে শ্রোতারা মুগ্ধ হবেন এটাই কাম্য। কিন্তু তাঁর বক্তব্যে আয়োজকদের চেহারা বিবর্ণ হল, শ্রোতাদের মধ্যে  অস্বস্তি লক্ষ্য করলাম। আমার বক্তব্যের শেষে বললাম, এই মহান  আয়োজনে অন্যতম শর্ত ছিল রাজনৈতিক কোন বক্তব্য দেয়া যাবে না। ছাত্র-শিক্ষকদের সমাবেশে দলীয় রাজনৈতিক বক্তব্য অবতারণাকে আমি সভাপতি হিসাবে নিয়ন্ত্রন করতে পারিনি বলে উপস্থিত  দর্শকদের কাছে দু:খ প্রকাশ ও ক্ষমা চাইছি। তখন তিনি উত্তেজিত হয়ে সভাকক্ষ পরিত্যাগ করে সোজা সার্কিট হাউজে চলে যান। পরদিন দৈনিক জনকন্ঠ পত্রিকায় আমাকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী চিত্রিত করে  প্রথম পৃষ্ঠায় ফলাও করে বানোয়াট সংবাদ ছাপানো হল। শিক্ষক পরিষদের সভায় এই মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদ প্রেরণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। প্রতিবাদপত্র প্রেরিত হয়েছিল কিনা বা প্রেরিত হলেও প্রকাশিত হয়েছিল কিনা জানি না। আমি চাকরীর শেষ প্রান্তে এসে যে ঝুকি নিতে পারি তরুণদের পক্ষে সে ঝুঁকি নেয়া বাস্তব সম্মত নয়। তাই হয়ত সবাই বিষয়টি হজম করেছিল। এরূপ বিতর্কিত লোক সম্পর্কে আমার সচেতন হওয়া উচিত ছিল।
৬. লেখা-  দেশাত্মক কবিতা “জন্মভুমি ” এবং কয়েকটি হামদ ও নাথ লিখে নোয়াখালী কলেজের সহকর্মী ও প্রখ্যাত সুরকার রমানাথ সেনকে পাঠালে  তিনি দেশাত্ম কবিতাটির এবং একটি হামদের সুর করে নিজেই কন্ঠ দিয়ে  পাঠিয়েছেন। তিনি বেঁচে থাকলে হয়ত এগুলি  আত্মপ্রকাশ করে সবার মুখে মুখে উচ্চারিত হত। এরপর বিবাহ যোগ্যা কন্যাকে সুপাত্রস্থ করার জন্য বাবা- মা সুপাত্রের সন্ধানে সর্বক্ষন চিন্তিত থাকে, তেমনি আমিও আমার রচিত হামদ-নাত ও কবিতাগুলির ব্যাপক প্রচারের জন্য আত্মীয়- স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, সহকর্মী, শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে পরিবেশন বা পারিবারিকভাবে চর্চা করে জনপ্রিয় করার জন্য ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ করেও অদ্যবধি কিছু দেখিনি। তবে আশা হারাই নি। এগুলি যেন প্রত্যেক কাছে পৌঁছে সবাইকে সত্যের পথে উদ্বুদ্ধ করে আমৃত্যু তা প্রত্যাশা করে যাব।
৭. গণিত বিভাগের বনভোজন ও ছোট মেয়ে সিমুনের সাথে বনভোজনে না যেতে পারা খাগড়াছড়ি কলেজে বদলীর মত ঘটনা ‘সবুরে মেওয়া ফলে ‘গল্পে উল্লেখিত হয়েছ। তাই এর পুনরাবৃত্তি করলাম না।
উপসংহার- আমাদের সন্তানের মৃত্যুতে অনেক কষ্ট হলেও আমরা ধৈর্য্য ধরেছিলাম নিন্মোক্ত হাদীসটি জেনে।
-মৃত সন্তান হবে জান্নাতের প্রজাপতি : আবু হাসসান (রহ.) থেকে বর্ণনা করেন, আমি আবু হুরায়রা (রা.)-কে বললাম, ‘আমার দুটি সন্তান মারা গিয়েছে। আপনি কি রাসুল (সা.) থেকে এমন একটি হাদিস বর্ণনা করবেন, যাতে আমার অন্তর সান্ত্বনা পায়? আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, হ্যাঁ, আমি নবি করিম (সা.)-কে  বলতে শুনেছি, ‘ছোট বয়সে মৃত্যুবরণকারী সন্তানেরা জান্নাতের প্রজাপতির মতো। তারা যখন বাবা অথবা বাবা-মায়ের উভয়ের সঙ্গে মিলিত হবে, তখন তার পরিধেয় কাপড় কিংবা হাত ধরবে, যেভাবে এখন আমি তোমার কাপড়ের আঁচল ধরেছি। এরপর সেই কাপড় বা হাত আর ছাড়বে না, যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা তাকে তার মা-বাবাসহ জান্নাতে প্রবেশ না করাবেন। (মুসলিম, হাদিস নং : ৬৩৭০)
-আল মামুন জাহানগীরি; শিক্ষাবিদ, বর্তমানে কানাডা প্রবাসী
0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published.

একই বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2021 Chardike24.com
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট @ ইজি আইটি সল্যুশন