1. masudkhan89@yahoo.com : admin :
  2. masudkhan89@gmail.com : Masud Khan : Masud Khan
  3. news.chardike24@gmail.com : চারদিকে ২৪.কম : রাইসা আক্তার

একুশ: চেতনায়, প্রেরণায়, ভাবনায়: মাহবুবুর রহমান তুহিন

  • আপডেট সময়: রবিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২২
  • ১০৩ দেখেছেন

বাঙালির জীবনে শোক, শক্তি ও গৌরবের প্রতীক অমর একুশে ফেব্রুয়ারি। একুশ আমাদের প্রতিবাদের প্রবল উচ্চারণ, একুশ আমাদের আত্মপরিচয়ের আলোকশিখা, একুশ অন্যায়ের বিরুদেধ সম্মিলিত সাহসের নাম, একুশ মানে মাথা নত না করা। একুশ আমাদের ভাবতে, ভালোবাসতে ও ত্যাগের মহিমা শেখায়।

আমাদের জাতিসত্ত্বার জাগরণ ও সংস্কৃতির বিকাশে একুশের ভূমিকা বিশাল, বিরাট এবং ব্যাপক। ৫২’র একুশে ফেব্রুয়ারিতে আত্মঅধিকার আদায়ের যে সোপান রচিত হয়েছিলো সেটাই পরবর্তীতে ধীরে ধীরে আমাদের স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতার পথ নিয়ে গেছে। কবির ভাষায়-

‘অপমানে তব জ্বলে উঠেছিলে সেদিন বর্ণমালা

সেই থেকে শুরু দিনবদলের পালা’

১৯৪৭ থেকে ১৯৫২ বাঙালির গৌরবময় ঐতিহাসিক দলিলে ভাষা আন্দোলনের উত্তাল দিনগুলো কালে কালে আমাদের জাতীয় জীবনে অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করেছে। এতদঞ্চলের শান্তিপ্রিয় জনসাধারণের স্বার্থ সুরক্ষার ক্ষেত্রে প্রতিটি অর্জনের পিছনে রয়েছে রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম ও অগণিত মানুষের আত্মত্যাগের ইতিহাস। জাতির পিতা ভাষা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে বার বার কারাবরণ করেছেন। ১৯৪৭ সালের ২৭ নভেম্বর করাচিতে অনুষ্ঠিত শিক্ষা সম্মেলনে উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা করার সুপারিশ গৃহীত হয়। ঢাকায় এ খবর পৌঁছালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা খাজা নাজিমুদ্দিনের বাসভবনের সামনে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করে। এর কিছুদিন পরেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র শেখ মুজিব তার সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ঢাকায় ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো-র ৩০তম সাধারণ সম্মেলনে বাঙালির অমর একুশে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ ঘোষণা করা হয়। এখন আমরা তথ্য-প্রযুক্তি যুগের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি শিল্প বিপ্লবের অনেক ধাপ অতিক্রম করে এখন আমরা চর্তুথ শিল্পবিল্পবের দিকে যাচ্ছি জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি হচ্ছে সমাজ এবং অর্থনীতির জ্ঞান দিয়ে কোন ভ্যালু তৈরি করা। জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি হচ্ছে দ্রুত পরিবর্তনশীল। প্রাকৃতিক সম্পদকে মেধা ভিত্তিক সম্পদে রূপান্তরিত করা, কায়িক শ্রমকে মেধাভিত্তিক শ্রমে রূপান্তরিত করা, উচ্চতর দক্ষ বিশেষায়িত শ্রম শক্তি এবং ইন্ডাস্ট্রির সাথে ইন্ডাস্ট্রির একটি সংযোগ স্থাপনই হচ্ছে এর মূল কাজ।

জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি বিষয়টি যেহেতু বৈশ্বিক সেহেতু আমাদের বৈশ্বিক বিষয়ের উপর একটি ধারণা থাকতে হবে। এখন আমি শ্রেণীকক্ষের বক্তব্যটি বাংলায় দিতে পারি কিন্তু অন্য ভাষার যে সকল  টার্ম অব আর্টস আছে সেই টার্ম অব আর্টসগুলো যদি আমরা বাংলায় করতে চাই তাহলে হবে না। বিশ্বের অন্য যে সকল দেশ তাদের মাতৃভাষায় শিক্ষা দেয় তারা এই সকল  টার্ম অব আর্টসগুলি তাদের মাতৃভাষায় ব্যবহার করে না। তারা নিজের ভাষায় বই লেখে কিন্তু টার্ম অব আর্টসগুলি যে ভাষা থেকে এসেছে সেই ভাষায় রাখে। তাতে শিক্ষার্থীরা বিষয়টি ভালোভাবে শিখতে পারে। তাই আমাদের প্রাথমিক থেকে উচ্চ শিক্ষা পর্যন্ত জ্ঞান চর্চাটা অবশ্যই মাতৃভাষা বাংলায় করতে হবে এবং পাশাপাশি কয়েকটি ভাষা শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। সেই ভাষাগুলো রপ্ত করতে হবে এবং উচ্চ শিক্ষায়ও টার্ম অব আর্টসগুলি যে ভাষায় আছে সেই ভাষায় রেখেই আমাদের শ্রেণীকক্ষের জ্ঞান চর্চা মাতৃভাষা বাংলায় করতে হবে। তবে কেউ যদি চায় যে আমি অন্য ভাষায় জ্ঞান চর্চা করবো সে ক্ষেত্রে তাদের জন্য আলাদা একটি ব্যবস্থা রাখতে পারি। বৈশ্বিকভাবে প্রতিযোগিতা করতে গেলে আমাদের একটা সংযোগকারী ভাষা লাগবে যার মাধ্যমে আমরা এক অপরের সাথে সংযোগ স্থাপন করতে পারবো।

বিশ্বের অনেক দেশ মাতৃভাষায় জ্ঞানচর্চা করছে এবং এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের দেশে বাংলা ভাষার মাধ্যমে শিক্ষা প্রদানের কাজটি এখনো সহজলভ্য হয়ে উঠেনি। তবে বাংলার মতো সমৃদ্ধশালী ভাষার পক্ষে এটি অসম্ভবও নয়।

 

দুর্ভাগ্যজনক হলেও এ কথা সত্য বিশ্বে প্রভাবশালী ভাষাগুলোরসাথে টিকতে না পেরে ক্ষুদ্র জাতিসত্তার অনেক ভাষা পৃথিবী থেকে হারিয়ে গেছে এবং যাচ্ছে। আমাদের দেশে অনেক ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী রয়েছে। এদের রয়েছে নিজস্ব ভাষা। শিক্ষার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে যে বিষয়টি যুক্ত তা হলো নিজস্ব ভাষা। আর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের চেতনাই হচ্ছে কোনো জনগোষ্ঠীর ভাষাই হারিয়ে যেতে দেয়া যাবে না।  সরকার ২০১০ সালে যে শিক্ষানীতি প্রণয়ন করে তাতে ‘প্রাথমিক শিক্ষাস্তরের সকল ক্ষুদ্র জাতিসত্তার জন্য স্ব স্ব মাতৃবাষা শিক্ষার ব্যবস্থা করা’র কথা বলা হয়েছে। এবং সরকারের আন্তরিক এ নিবিড় প্রচেষ্টায়  ২০১৭ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো, সাদরি এই পাঁচটি ভাষায় প্রাক-প্রাথমিক থেকে তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত পাঠ্য পুস্তক প্রণয়ন ও বিনামূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে। আরো যে সব নৃগোষ্ঠী আছে তাদের ভাষার হরফ উদ্ধার ও লিখিতরূপ দিতে আমরা চেষ্টা করছি। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট সক্রিয়ভাবে আমাদের সহযোগিতা করবে বলে আমরা আশাবাদী।

মাতৃভাষার জন্য রক্তদেবার ইতিহাস পৃথিবীতে একমাত্র আমরাই স্থাপন করেছি। মাতৃভাষার প্রতি আমাদের আবেগ, অনুভূতির প্রতি সম্মান জানিয়েই ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। বিশ্বের প্রায় ৩৫ কোটি নাগরিক বাংলাভাষায় কথা বলে এবং সারা বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে বাংলা ভাষীরা ছড়িয়ে আছে। বাংলা ভাষার সমৃদ্ধি, উৎকর্ষতা ও প্রসারতা বিবেচনায় বাংলাকে জাতিসঙ্গের অফিসিয়াল ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া এখন সময়ের দাবি। জননেত্রী শেখ হাসিনা এ ব্যাপারে অত্যন্ত আন্তরিক। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবার জন্য আমরা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

ভিশন ২০৪১-এর লক্ষ্য বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই উন্নত দেশ হিসেবে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াব ইনশাআল্লাহ। ২০৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতার শতবর্ষ উদযাপন করবে এবং ২১০০ সালের মধ্যে ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়ন করবে। এরই ধারাবাহিকতায় আমাদের মাতৃভাষা ও সংস্কৃতিকে উন্নত বিশ্বের সঙ্গে সমান তালে মর্যাদার সুউচ্চ আসনে উন্নীত করতে সক্ষম হবো।

আসুন, মহান একুশ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে  সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ে তুলি।

 

0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published.

একই বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2021 Chardike24.com
Site Customized By NewsTech.Com