1. masudkhan89@yahoo.com : admin :
  2. masudkhan89@gmail.com : Masud Khan : Masud Khan
  3. news.chardike24@gmail.com : চারদিকে ২৪.কম : রাইসা আক্তার

টকশোতে তাঁরা যা বললেন

  • আপডেট সময়: মঙ্গলবার, ২৯ মার্চ, ২০২২
  • ৫২ দেখেছেন

   সম্প্রচারিত টকশো থেকে বাছাইকৃত টকশোর রিপোর্ট

                                       এসএ টিভি, লেট এডিশন

বিষয়: রাজনীতি এখন

উপস্থাপক: সোনিয়া হক।

 

সুভাষ সিংহ রায়, কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক : সব ঠিক থাকলে ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে নির্বাচন হবে। এই নির্বাচনকে ঘিরে একটা প্রি-মার্কেটিং চলছে। সেই প্রি-মার্কেটিংকে কেন্দ্র করে, বিএনপি তাদের কর্মীদের উজ্জীবিত করার জন্য তাদের কথাবার্তা আকাশে-বাতাসে ছড়িয়ে দিচ্ছে। দুইটি প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য থাকে। বিএনপি নির্বাচন কমিশন নিয়ে আগ্রহী না। তারা নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে আগ্রহী। যদিও বাংলাদেশের উচ্চ আদালত বলে দিয়েছেন এটা সম্ভব না। বিএনপি বলেছে তারা গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরত নিয়ে আসতে বাধ্য করবে। কিন্তু জনগণের কথা বলে যদি জনগণ থেকে দূরে থাকতে চান, তাদের সাথে যদি সম্পৃক্ততা না থাকে, তাহলেতো সেটা কাজ করবে না।

 

ফখরুল ইমাম এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য, জাতীয় পার্টি : জাতীয় পার্টি ১৯৯১ সালে যখন ক্ষমতার বাইরে আসলো, লেভেল প্লেয়েয়িং ফিল্ডতো দূরের কথা, কোনোরকম সুযোগ-সুবিধাই পাওয়া যায়নি। তারপরও জাতীয় পার্টি ১৭% ভোট পেয়ে ৩৫টি আসন পেয়েছিল। সুতরাং জাতীয় পার্টি কখনোই জনগণের সম্পৃক্ততার বাইরে যায়নি। হয়তো জাতীয় পার্টির প্রতি জনগণের আকর্ষণটা বরাবরই ছিলো। জাতীয় পার্টি সবসময়ই গণতন্ত্রে এবং নির্বাচনে বিশ্বাসী। বাংলাদেশে ১১টি জাতীয় নির্বাচন হয়েছে। এর মধ্যে কিছু ভালো হয়েছে, কিছু খারাপ। প্রতিটি নির্বাচনে জাতীয় পার্টি অংশগ্রহণ করেছে এবং নির্বাচনকে তারা প্রতিবাদের ভাষা হিসাবে ব্যবহার করে। জনসম্পৃক্ততা আছে বলেই আমরা এখন ২৬টি আসন নিয়ে সংসদে আছি।

 

শেখ রবিউল আলম, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, বিএনপি : বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০১৪ বা ২০১৬ সালের মতো দুর্বার আন্দোলন আর হয়েছে কি? বাস্তবিক অর্থে অকার্যকর হয়ে গিয়েছিল দেশ। বগুড়া থেকে এক গাড়ি কাঁচামরিচ নিয়ে আসতে চার গাড়ি বিডিআর লেগেছিল। ঢাকা থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলো পুরো দেশ। এমন গণ-আন্দোলন বাংলাদেশে আর হয়নি। সরকার বধির হয়ে গিয়েছিল। তারা গণতন্ত্রে ভাষা বুঝে নাই। তারা বন্দুকের নল দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছে, দমন-পীড়ন করেছে। এক লাখ ছয় হাজার মামলায় ৩৬ হাজার আসামী করা হয়েছিল। আমি নিজে সাত বার গ্রেপ্তার হয়েছি অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য, এই রাষ্ট্রের জন্য। সরকার ভয় পেয়েছিল বলেই ক্রেডিবল নির্বাচন আয়োজন করতে ভয় পায়। সরকার দেশকে এমন জায়গায় নিয়ে গিয়েছে, যেখানে মানুষ ভোট দিতে পারে না, সব ইন্সটিটিউটগুলো হয়েছে রাজনৈতিক, রাষ্ট্রের ৩টি বিভাগ নিজেদের মতো ব্যবহার করছে। এরচেয়ে দৈন্য রাজনৈতিক দল পৃথিবীর ইতিহাসে নাই।

 সময়, সম্পাদকীয়

বিষয়: ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ও ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ

উপস্থাপক : খান মুহাম্মদ রুমেল।

 

ড. আসাদুজ্জামান রিপন, বিশেষ সম্পাদক, বিএনপি : আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশের জনগণকে গোলাম বানিয়ে রেখেছে। আগেকার দিনে রাজা-বাদশারা যেভাবে প্রজাদের ওপর অত্যাচার ও নির্যাতন করতো, ঠিক একইভাবে সরকার বাংলাদেশের জনগণকে হামলা, মামলা, গুম ও খুন করছে। আওয়ামী লীগের কাছে বাংলাদেশের কোনো জনগণ নিরাপদ নয়। কেউ যদি বলে আমি ভালো নেই, তারপরও তাকে অপরাধী হিসেবে জেলে ভরা হবে। এ কেমন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলো বঙ্গবন্ধু, যেখানে মানুষের নিরাপত্তা নেই, মানবাধিকার নেই, কথা বলার স্বাধীনতা নেই, খাদ্য নেই, বাসস্থান নেই ও মৌলিক অধিকার নেই। শেখ হাসিনার কাছে আওয়ামী লীগ নামক দলটিও নিরাপদ নয়। কারণ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে এখন স্বৈরাচার শাসকের হাতে পড়েছে। বিএনপি জনগণকে সাথে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এ ফ্যাসিবাদী সরকারকে হঠাতে কাজ করে যাবে এবং গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করবে।

 

এস এম কামাল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সর্বকালের সবশ্রেষ্ঠ বাঙালী, যার নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীনতা পেয়েছিলো। বঙ্গবন্ধু বাঙালীর চেতনা। বঙ্গবন্ধু ব্যতীত কখনোই বাংলাদেশের ইতিহাসকে কল্পনা করা যায় না। বঙ্গবন্ধু মানে বাংলাদেশ, বাংলাদেশ মানে বঙ্গবন্ধু, এ দু’টি শব্দ একে অপরের সাথে সর্ম্পকিত। বিএনপির দুঃশাসন আমরা দেখেছি। ৭৫ এ বঙ্গবন্ধুকে হত্যা ও ২১ শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা ইত্যাদি অপকর্ম আমরা বিএনপি দ্বারা সংগঠিত হতে দেখেছি। বিএনপিকে বাংলাদেশের জনগণ বিশ্বাস করে না বলে আজ আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসেছে। বাংলাদেশের জনগণ আওয়ামী লীগ সরকারের কাছে আমানত। সেই আমানত রক্ষা করতে দেশনেত্রী শেখ হাসিনা কাজ করে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগ সরকারকে জনগণই ক্ষমতায় বসিয়েছে, এ কারণে যেনো অবৈধভাবে বিএনপি ও তার দোসররা ক্ষমতায় আসতে না পারে। আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের ভালবাসা নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছে।

 

কাশেম হুমায়ুন, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক, দৈনিক সংবাদ : ইতিহাস ইতিহাসই। সেটাকে কখনো পরিবর্তন করা যায় না। বাংলাদেশের ইতিহাস বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা এক সুতোয় গাঁথা। মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার জন্য যে দল সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে, সেটি হলো আওয়ামী লীগ। বঙ্গবন্ধুর ডাকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলো সাধারণ জনগণ, পাশাপাশি জিয়াউর রহমান একটি সেক্টর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলো। ইতিহাসকে কখনো বিকৃত করা যায় না। যে বা যারা এসব কাজগুলো করে থাকে, তারা বাংলাদেশের কল্যাণ চায় না। ইতিহাসের  বিকৃতিরোধে তরুণ প্রজন্মকে স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জ্বীবিত করতে হবে। আগামী প্রজন্মকে স্বাধীনতার চেতনায় জাগ্রত করে দেশমাতৃকার সেবায় আত্মনিয়োগ করতে হবে।

 

মন্তব্য : উপস্থাপক নিরপেক্ষতা অবলম্বন করে আলোচকদের মতামত প্রদান করার সুযোগ দেন। আলোচনা দর্শক ও শ্রোতাদের নিকট উপভোগ্য করে তুলতে তিনি সচেষ্ট ছিলেন।

 

ডিবিসি নিউজ, রাজকাহন

বিষয় : রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ : মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা?

উপস্থাপক : শারমিন চৌধুরী।

মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান, শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক, আওয়ামী লীগ : রাশিয়া- ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে ইউরোপ, আমেরিকার অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ। বাংলাদেশের মূল লেনদেন ইউরোপ ও আমেরিকার সাথেই, যার ফলে সে প্রভাব বাংলাদেশের উপরও পড়ছে। রাশিয়ায় ও ইউক্রেনে বাংলাদেশের অনেক ব্র্যান্ডের স্টোর রয়েছে। সে স্টোরগুলো যুদ্ধের জন্য বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছে রাশিয়া ও ইউক্রেন। যে কারণে বাংলাদেশ থেকে পণ্যের অর্ডার কমে যাচ্ছে। যদি এ যুদ্ধ চলমান থাকে তাহলে শুধুমাত্র গার্মেন্টস খাতই না, রপ্তানি খাতেও খারাপ অবস্থা নেমে আসবে। বর্হিবিশ্বের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ হবে, বাংলাদেশের অবস্থাও সে রকমেই হবে। যদি  শিল্পখাত সামনে পেমেন্ট না পায়, তাহলে খুব ঝুঁকির মুখে পড়বে এ খাত। তবে, এতটা ভয় পওয়ার মতো অবস্থা এখনো হয়নি। এখনো মোটামুটিভাবে ফ্যাক্টরিগুলো চলছে। যুদ্ধের অবস্থা যদি ভালো হয়, তাহলে বাংলাদেশের অবস্থাও ভালো হবে।

মীর নাসির হোসেন, সাবেক  প্রেসিডেন্ট, এফবিসিসিআই : বাংলাদেশ এখন গ্লোবাল ভিলেজের অন্তর্ভুক্ত। এখান থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার সুযোগ নেই। পুরো বিশ্বের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ।  সে প্রভাব বাংলাদেশে পড়ছে। এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। বলা হচ্ছে, ৫ শতাংশ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক জিডিপি কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রাশিয়া সারাবিশ্বে ২৫ শতাংশ তেল ও গ্যাস সাপ্লাই করে। যুদ্ধের এ অবস্থায় রপ্তানি কমে গেছে। ফলে তেলের দাম, গ্যাসের দাম শুধু বাংলাদেশেই বাড়ছে না, সারা বিশ্বে এর প্রভাব পড়ছে। যুদ্ধ যদি দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে সারা বিশ্বের আমদানি, রপ্তানি খাতে খারাপ অবস্থা হবে।

অধ্যাপক ডা. রুমানা হক, অর্থনীতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় : কোভিড পরবর্তী অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর মুহূর্তে এ যুদ্ধ বাংলাদেশকে শঙ্কায় ফেলেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি আরো বাড়ছে। ফলে নিম্ন আয়ের মানুষদের ওপর চাপ পড়ছে। মানুষের নরমাল আয় বাড়লেও, প্রকৃত আয় খুবই কম হারে বাড়েছে। যে কারণে নিম্ন আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কম। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। যার জন্য যাতায়ত খরচ বাড়ছে, বিদ্যুৎ খরচ বাড়ছে, কৃষি পণ্যের দাম বাড়ছে। সব মিলিয়ে যখন নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে, তখন সে প্রভাব নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর পড়বে। বিশ্বে বাজারের সঙ্গে লেনদেনে সরকারকে স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা  করতে হবে।

মন্তব্য : উপস্থাপক  নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেছেন। অনুষ্ঠানে উপস্থাপক তার নিজস্ব কোনো মন্তব্য করেননি।

চ্যানেল আই, তৃতীয় মাত্রা

বিষয় : রাশিয়া – ইউক্রেন যুদ্ধে বাংলাদেশের অবস্থান

উপস্থাপক : জিল্লুর রহমান।

 

ড. আলী রিয়াজ, ডিস্টিংগুয়িসড প্রফেসর, ইলিয়ন স্টেট ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাষ্ট্র : জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যখনই স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন এসেছে, তখনই বাংলাদেশ নীতিগত অবস্থান নিয়েছে নিরপেক্ষভাবে। বাংলাদেশ পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে সবসময় নৈতিকতাকে স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করেছে। ইউক্রেনের এই যে সামগ্রিক সংকট শুধু ইউক্রেনের নয়, সমগ্র বিশ্বের সাথে বাংলাদেশেও পড়তে শুরু করেছে। এই যুদ্ধ বন্ধ হওয়া আবশ্যক। যে আগ্রাসন শুরু হয়েছে, এটির সমাধান হওয়া উচিত। ইউক্রেনের সমস্যার জন্য কোনো না কোনোভাবে কূটনৈতিক সমাধান বের করতে হবে। এ যুদ্ধের ক্ষেত্রে রাশিয়া যে আগ্রাসন শুরু করেছে, সেটা বিশ্বের কাছে অত্যন্ত নিন্দনীয়। রাশিয়া অতীত ইতিহাসের মতো ইউক্রেনকে মানসিকভাবে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে মানতে পারছে না। এ বিষয়টাকে রাশিয়া ইতিবাচকভাবে দেখলেও, অবস্থার উন্নতি সম্ভব। সামগ্রিক দিক দিয়ে বিশ্বের কাছে অমানবিকতার বিষয় হিসেবে বিবেচিত এ যুদ্ধ। যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার অবস্থান আশাব্যঞ্জক নয়। রাশিয়ার মতো একটি বড় দেশ যত দ্রুত ইউক্রেনকে পরাজিত করবে বলে মনে করেছিল, বাস্তবে এটির বিপরীত ঘটেছে। রাশিয়া ইউক্রেন দখল করে নিলেও, রাশিয়া-ইউক্রেন সম্পর্ক কখনোই ভালো হবে না, কারণ ইউক্রেনের নাগরিকরা রাশিয়ার নেতৃত্বকে ভালোভাবে মেনে নিতে পারবে না। এ যুদ্ধকে কেন্দ্র করে সমগ্র বিশ্বের অর্থনীতি এক ভয়াবহ সংকটের মধ্যে পড়ে গেছে। ইতিমধ্যে কোভিডের কারণে বিশ্বের অর্থনীতিতে একধরণের শ্লথগতি তৈরি হয়ে গেছে। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশ্বের অর্থনৈতিক দুর্বলতা।

 

মোঃ তৌহিদ হোসেন, সাবেক পররাষ্ট্র সচিব : ইউক্রেন ও রাশিয়া যুদ্ধের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভোটদানে বিরত থেকে তার নিজের নিরপেক্ষ অবস্থানকে উপস্থাপন করেছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতাও একটা পক্ষ অবলম্বন হয়ে দাঁড়ায়। জাতিসংঘে প্রথম দফায় বাংলাদেশ ইউক্রেনের পক্ষে ভোটদানে বিরত থেকে রাশিয়ার পক্ষে অবস্থানকে স্পষ্ট করেছিল। দ্বিতীয় দফায় বাংলাদেশ ইউক্রেনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, যা ইতিবাচক হিসেবে আখ্যা দেওয়া যায়। কূটনৈতিক সম্পর্ক ভালো থাকলেও, শক্তিশালী দেশ যেকোনো সময় দুর্বলের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালাতে পারে। পৃথিবীর প্রত্যেকটি দুর্বল দেশের জন্য ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ একটি শিক্ষণীয় বিষয়, যাদের একটি শক্তিশালী প্রতিবেশী দেশ রয়েছে। মৌলিক প্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন যখন শতবছরের মধ্যে এমন পরিস্থিতি এসে হাজির হয়, যাতে তারা প্রাথমিকভাবে মোকাবেলা করতে পারে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মেয়াদ প্রায় এক মাস হলেও, এই সময়ে রাশিয়া তেমন সুবিধা করতে পারেনি। পাশাপাশি ইউক্রেন রাশিয়াকে সমুচিত জবাব দিচ্ছে। ইউক্রেনে যে ক্ষতি হয়েছে, এই ক্ষতির জন্য বিশ্বব্যাপী সমর্থন রযেছে ইউক্রেনের পক্ষে। এ যুদ্ধের প্রভাবে ভবিষ্যতে রাশিয়ার মধ্যেও যথেষ্ট অর্থনৈতিক সংকট দেখা দেবে। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে রাশিয়ার বিপক্ষে অবস্থান করাকে বৈশ্বিক সম্পর্ক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কেননা বিশ্বের বড় শক্তিগুলোর কাছে বাংলাদেশের মতো ছোট দুর্বল দেশের অবস্থান অনেক নিচুতে। বৈশ্বিকভবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি যাতে প্রভাবিত না হয়, এজন্য শক্তিশালী দেশগুলোর সাথে ভালো কূটনৈতিক সম্পর্ক রাখা জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মন্তব্য : উপস্থাপক তার সঞ্চালনায় তথ্য উপাত্ত দিয়ে আলোচকদের আলোচনাকে আরো উপভোগ্য করে তুলতে সচেষ্ট ছিলেন।

 

 

এটিএন বাংলা, এটিএন সংলাপ

বিষয় : আলো আঁধারের রাজনীতি

উপস্থাপক  আমিনুল মজলিশ।

 

মো. আব্দুস সালাম, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা : আলো আঁধারের মধ্যে বর্তমানে আমাদের দেশের রাজনীতি চলছে, যেটা আমাদের জন্য মঙ্গলজনক নয়। বিএনপি ষড়যন্দ্রের রাজনীতি করে না। যা করে তা ওপেন বা প্রকাশ্য  রাজনীতি। জনগণের ভোটের অধিকার আওয়ামী লীগ ছিনিয়ে নিয়েছে। সেটা আমরা ফিরিয়ে দিতে চাই। যারা দিনের ভোট রাতে করে, তারাই অন্ধকারের রাজনীতি করে। গত দু’টো নির্বাচন দেশে ও দেশের বাইরে সবার কাছেই ক্লিয়ার। সে নির্বাচনগুলোতে দেশের মানুষ ভোট দিতে পারেনি। এজন্যই বিএনপি বলছে, দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। বর্তমান নির্বাচন কমিশনও বলেছে, তারা দলীয় সরকারের অধীনে সম্পূর্ণ সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারবে না। গত নির্বাচনে দেখা গেছে, বিএনপির প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ নয়, প্রশাসনই হচ্ছে প্রতিপক্ষ। তাহলে নির্বাচন সুষ্ঠু কিভাবে হবে? নির্বাচন কমিশন সরকারের বাইরে কিছু করতে পারে না। তাদের করার ক্ষমতাও নেই। এজন্য  তারা ইচ্ছে থাকলেও কিছু করতে পারে না। এজন্য নিরপেক্ষ ব্যক্তির অধীনেই নির্বাচন হতে হবে।

আহমদ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ : অন্ধকারের মাঝ থেকেই বিএনপির জন্ম। তারা সাম্প্রদায়িক রাজনীতির মধ্য দিয়েই চলছে। আমাদের বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে নিয়ে আসার চেষ্টা করছেন। বিএনপি রাজাকার আলবদরদেরকে সাথে নিয়ে পথ চলছে। আলোর পথে চলার ক্ষেত্রে মাঝে মধ্যে অন্ধকার এসে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে, কিন্তু সে বাধাকে অতিক্রম করে দেশ আজ এগিয়ে চলছে। জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশ ডেভলপমেন্ট এবং অগ্রগতির দিকে এগুচ্ছে। তাই স্টাবলিশ একটা সরকার আওয়ামী লীগ সবসময় চায়।

ড. মাহবুব হাসান, সিনিয়র সাংবাদিক : রাজনীতি কখনো ষড়যন্ত্রের হতে পারে না। এটা আলোর দিকে জনগণকে ডাকে। বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ একদল অন্যদলকে যে দোষারোপ করছে, এটা কোনো রাজনীতি নয়। রাজনীতি হবে জনগণের জন্য। দোষারোপের রাজনীতি আমাদের হওয়া উচিত নয়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রাজনীতিবিদরা পরস্পরকে সম্মান দিয়ে কথা বলেন। আমাদেরও সে দেশপ্রেম নিয়ে রাজনীতি করতে হবে।

 মন্তব্য : উপস্থাপক তার সুন্দর উপস্থাপনা দিয়ে আলোচনাকে উপভোগ্য করে তুলেন।

0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published.

একই বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2021 Chardike24.com
Site Customized By NewsTech.Com