1. masudkhan89@yahoo.com : admin :
  2. masudkhan89@gmail.com : Masud Khan : Masud Khan
  3. news.chardike24@gmail.com : চারদিকে ২৪.কম : রাইসা আক্তার

ঋণ পরিশোধ (১ম পর্ব): আল মামুন জাহানগীরি

  • আপডেট সময়: সোমবার, ৪ জুলাই, ২০২২
  • ৯২ দেখেছেন
বৃক্ষ, লতা- পাতা যেমন কোন কিছু উপর অবলম্বন করে বেড়ে উঠে, প্রসারিত হয়ে নির্দিষ্ট বেষ্টনী ছাড়িয়ে এদিক- সেদিক ঝুলে থাকে তেমনি আমার জীবন ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায়  বাবা -মা , ভাই- বোন, আত্মীয়- স্বজন, বন্ধু- বান্ধবকে ছাড়িয়ে পাড়া- প্রতিবেশ এমন কি অজানা কারো না কারোর সহযোগিতায় অতিবাহিত হচ্ছে। দিনে দিনে এর পরিমান এত বেড়ে গেছে যে তা সামাল দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। স্থানাভাবে সব ঘটনা উল্লেখ সম্ভব নয়। নিমন্ত্রণে সুস্বাদু খাদ্য কন্ঠনালী পর্যন্ত খেয়ে শ্বাস নিতে কষ্টের সময় ঢেঁকুর দিলেও কিছুটা উপশম হয় তেমনি হাজারো সাহায্যের কয়েকটা উল্লেখ করে কিছুটা স্বস্তির প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।
১)মেট্রিক পাশের পর এইচ এস সি তে ভর্তির পালা। আপা তখন পুরান ঢাকার প্যারীদাস সংলগ্ন ২১ নং রূপলাল দাস রোডে থাকেন। তাই প্রথমে চেষ্টা করা হল জগন্নাথ কলেজে ভর্তির জন্য এবং নির্বাচিতও হলাম। কিন্তু মানুষ যা সহজে পেয়ে যায় তাতে সন্তুষ্ট না হয়ে ঢাকা কলেজে ভর্তির চেষ্টা চালালাম। কিন্তু দেখা গেল সেখানে ভর্তি প্রক্রিয়া সমাপ্ত। তাই জগন্নাথ কলেজে ফিরে এলাম। এখানেও ভর্তির যে শেষ সময় নির্ধারিত ছিল তা পার হয়ে গেছে। অধ্যক্ষ মহোদয়ের সাহায্য চাইলে তিনি অপারগতা জানালেন। কিন্তু দুলা ভাই একে এম মকবুলুর রহমান নাছোড় বান্দা। থাকার জায়গা নিকটবর্তী সহ নানা যুক্তি দেখায়ে  ভর্তি করাতে সক্ষম হলেন।
২)ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময়ও সমস্যায় পতিত হতে হয়েছিল। ড. কাজী মোতাহার হোসেনের নেতৃত্বে পরিসংখ্যান বিভাগ খোলা হয়েছে। উক্ত বিভাগ হতে পাশ করলে উজ্জ্বল ভবিষ্যত বিবেচনায় দরখাস্ত করলাম, মৌখিক পরীক্ষাও দিলাম। বোর্ডে মোতাহার সাব, ওবায়দুল্লাহ স্যারসহ অন্যান্যরা। কিন্তু তাঁরা নম্বর ফর্দে টাইপে ঠুনকো একটি ভুলের কারনে আমাকে অযোগ্য ঘোষনা করল। পেড় গেলাম মহাফ্যাসাদে, আর কোথাও দরখাস্ত করি নি।
বড় ভাই রেজা জাহঙ্গীরি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢাকা হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন। চাচা প্রফেসর কফিল উদ্দিন আহমদের ভায়রা জনাব মোলকুতুর রহমান সেখানকার হাউস টিউটর । তদোপরী  হল রাজনীতির সাথে ভাই জড়িত ছিলেন। সে হিসাবে ঢাকা হলের প্রোভোষ্ট ড: মুসফিকুর রহমানের সাথে গভীর সম্পর্ক। ভাগ্যক্রমে তিনি গণিত বিভাগের প্রবীন শিক্ষক। ভাই আমার এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি হতে উদ্ধারের জন্য তাঁর সাহায্য চাইলেন ।তখন গণিত বিভাগে ছাত্র সংকট ছিল। তাই তিনি আগ্রহ সহকারে আমাকে ভর্তির ব্যবস্থা করলেন।
৩)আমি চট্টগ্রাম কলেজে গনিতের সরকারী অধ্যাপক থাকাকালীন সময়ে নুরুল করিম মজুমদার ইংরেজী বিভাগে সম্মান শ্রেনীর ছাত্র ছিল। তখন তাঁর সাথে আমার পরিচয় হয়নি, দূর হতে হয়ত আমাকে দেখেছে। আমি পদোন্নতি পেয়ে নোয়াখালী কলেজে যোগদানের পর কিছুদিন ছাত্রাবাস সংলগ্ন শিক্ষকদের জন্য নির্ধারিত  কয়েকটি কক্ষের একটিতে অবস্থান করি। পাশের কক্ষে অবস্থানরত নুরুল করিম আমার সাথে সাক্ষাত করে চট্টগ্রাম কলেজের ছাত্র ও বর্তমানে ইংরেজী বিভাগের প্রভাষক। তাঁর বাসা চট্টগ্রামে বলে ছুটিতে এক সাথে যাওয়া আসা হয়। এক সময় পারসিভিল হিলে বাসা ছেড়ে দিয়ে চন্দনপুরায় চার তলায় বাসা নিয়েছি। ছোট ছোট দুটি মেয়ে নিয়ে অবর্ননীয় কষ্টে আছে আমার স্ত্রী, লোক না পেলে গ্যাসের সিলিন্ডার টেনে টেনে তুলতে হচ্ছে ।  এ সব শোনে তিনিই নোয়াখালীতে বাসা  নেবার পরামর্শ দিলেন। কিন্তু তখন নোয়াখালীতে  প্রাইভেট বাসায় বাথরুম সংলগ্ন ছিলনা। তাই সরকারি বাসা খালি হবার প্রত্যাশায় রইলাম। খালি হবার পর দরখাস্ত করলেও অন্যকে বরাদ্দ দেয়া হল। এ শোনে করিম সাব রাগান্বিত হয়ে ডিসি আবদুল রশিদ সাবের পুত্রকে জানাল। সে আমাদের কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। সপ্তাহের মধ্যেই জানতে পারলাম বরাদ্দ পালটিয়ে বাসা আমাকে দেয়া হয়েছে।
 ৪)এই বাসায় আমাদেরকে বেশী দিন থাকতে হয় নি। এই বাসার ত্রুটি ছিল বারান্দাটিতে কোন কারনে গভীর গর্ত সৃষ্টি হয়েছিল। একটুখানি বৃষ্টি হলেও পানি জনে যেত। তাছাড়া সামনের  অগভীর পুকুটি হতে ছোট ছোট সাপ উঠে এসে ঘরে ঢুকে যেত। তা দেখে বাচ্চারা লাফিয়ে খাটের উপর উঠত আর আমি লাঠি দিয়ে হয় তাড়াতাম। এই বাসার দোতলায় বাস করতো অতিরিক্ত জেলা জজ আব্দুল মতিন। তিনি দক্ষতা দ্বারা জাঁদরেল বিচারক হিসাবে খ্যাতি লাভ করেন। অল্প দিনের মধ্যেই আমার স্ত্রীর সাথে তাঁর স্ত্রীর সখ্যতা গড়ে উঠে। আমার দুই মেয়ে তাঁর এক ছেলে পার্থ ও এক মেয়ে  ইভা হতে কিছুটা বড় বলে  তাদেরকে স্নেহ করত। এভাবে পারিবারিক সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হতে থাকে। বৃষ্টি হলেই যে আমাদের দুর্গতি ঘটে তাতে সহানুভুতিশীল হয়ে উঠেন।  অন্য বিল্ডিং এর দোতলায় বসবাসরত চক্ষু চিকিৎসক বদলী হলে দরখাস্ত করার সুযোগ ঘটে।পাব কি পাব না দোটানার পর দরখাস্ত করলাম।বাসাগুলি নির্মিত হয়েছিল জেলা পর্যায়ের বড় কর্তাদের জন্য। শিক্ষকদের কাছে লেখাপড়া করে বড় কর্তা হয়েই কেহ কেহ শিক্ষকতা পেশাকে অবজ্ঞা করে, সরকারি কর্মকর্তা স্বীকৃতি দিতে রাজী হয় না; সেখানে  এমন লোককে এত সুন্দর বাসা দিবে আশা করতে পারি নি। কিন্তু বাস্তবে সে বাসা আমার নামে বরাদ্দ হওয়াতে অবাক হলাম। পরে জানতে পারলাম এর পেছনে জবরদস্ত হস্তক্ষেপ ছিল জনাব আব্দুল মতিনের ।
৫)নোয়াখালীতে দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলাম বলে কয়েকটি জাতীয় নির্বাচনে আমাকে প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করতে হয়েছিল। প্রতিবারেই জুনিয়র শিক্ষকদের নিকটবর্তী কেন্দ্রে দিয়ে আমাকে দূরবর্তী কেন্দ্রে প্রেরণ করা হয়েছিল। এতে আমি নির্বাচন অফিসের সাথে বিরক্ত হয়ে নির্বাচনী কর্মকান্ড হতে অব্যহতি পাবার পথ খুঁজছিলাম।
এ সময়ে তৎকালীন উপাধ্যক্ষ জনাব খগেন্দ্র নাথ সরকার  অবসরে যান। অধ্যক্ষ মহোদয় কি মনে করে আমাকে উক্ত পদে অধিষ্ঠিত হতে আহ্বান জানালে আমি ইষৎ সম্মতি জানাই যদিও আমি প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের চেয়ে শিক্ষকতায় বেশী উৎসাহী ছিলাম। অধ্যক্ষ মহোদয় চেষ্টা তদবীর করে আমাকে উপাধ্যক্ষ বানালেন। কিন্তু উক্ত পদে বেশী দিন বহাল থাকতে পারলাম না।
১৯৯৩ সালে যখন প্রফেসর পদে আমার পদোন্নতি আসন্ন হয়ে পড়ল তখন তৎকালীন অধ্যক্ষ আব্দুল জলিল আমাকে নোয়াখালী কলেজে রাখার জন্য আপ্রান প্রচেষ্টা চালিয়ে উক্ত পদটিকে প্রফেসরের পদ মর্যাদায় উন্নীত করেন। কিন্তু কি নির্মম পরিহাস সেবার আমার পদোন্নতি হল না ,ফলে আমাকে শরিয়তপুর কলেজের উপাধ্যক্ষ হিসাবে বদলী করে সদ্য প্রফেসর পদোন্নতি প্রাপ্ত সায়লা কাজীকে উক্ত পদে পদায়ন করা হয়। এক বছর তথায় চাকরী করার পর আমি পদোন্নতি পেয়ে দিনাজপুর কলেজে যোগদান করি।
শরীয়তপুর কলেজ ও দিনাজপুর কলেজে মিলে ১ বছরের কিছু বেশী সময় নোয়াখালী কলেজের বাইরে থাকাকালীন সময় বলতে গেলে উপাধ্যক্ষের পদটি খালী ছিল। সায়লা কাজী বদলী হবার পর মো. ইবনে ইনাম ও শামসুল হকের পোষ্টিং হলে তারা এক হাতে যোগদান ও অন্য হাতে বিমুক্ত হয়েছে । ফলে অধ্যক্ষ মহোদয় অসুস্থ শরীর নিয়ে একা একা সব ঝামেলা পোহায়ে বিরক্ত হয়ে উঠেন। মহাপরিচালকের অফিসে গিয়ে আমাকে ফিরিয়ে আনার জোর তদবীর করেন। ডাইরেক্টর মহোদয়ের পরামর্শ মোতাবেক অধ্যক্ষ মহোদয় আমাকে দরখাস্ত নিয়ে তাঁর অফিসে দেখা করতে বলেন। আমি দরখাস্ত নিয়ে সেখানে গেলে খালাত বোন ফেরদাউসী আপার স্বামী জনাব লুৎফুল কবিরের সাথে দেখা হয়ে যায়। তিনি তৎকালীন মহাপরিচালকের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। দুলাভাই আমাকে সেখানে যাবার কারণ জানতে চাইলে আমার মেয়ে দুইটার পাবলিক পরীক্ষার সময় তাদের পাশে থাকার প্রয়োজনীয়তার কথা বুঝিয়ে বললাম।  তিনি তাঁর বন্ধু মহাপরিচালকের কাছে সুপারিশ করেছিলেন কিনা জানি না তবে কয়েক দিনের মধ্যে বদলির আদেশ দিনাজপুর কলেজে পৌঁছলে অবাক হলাম। তবে সেখান থেকে বিদায় নিয়ে আসতে খারাপ লেগেছিল। প্রত্যেহ সকালে কলেজ আঙ্গিনার আম-কাঁঠালের বাগানে বেড়ানো হতে বঞ্চিত হলাম। তদোপরী অধ্যক্ষ সহসাই অবসরে যাবেন। স্বভাবত:ই জেষ্ঠতম কর্মকর্তা হিসাবে আমার কাছেই দায়িত্ব হস্তান্তর করা হত।।অধ্যক্ষের জন্য নির্ধারিত বাসা ও গাড়ী যে কোন লোককে আকৃষ্ট করতে পারে। তবে স্থানীয় লোক ছাড়া কেহ এই প্রত্যন্ত অঞ্চলে এই দায়িত্ব নিতে আগ্রহী হবে না। তাই বিনা প্রচেষ্টায় এখানে বহাল হওয়াটা অসম্ভব ছিল না। শরীয়তপুর কলেজে এক বছর অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করে স্বাধীনভাবে নিজস্ব চিন্তা- ভাবনাকে বাস্তবায়েন সুযোগ দেখে পদটির প্রতি কিছুটা আসক্তিও জন্মেছিল। কিন্তু সন্তানদের মঙ্গলের জন্য নিজের আশা আকাক্ষাকে তো জলাঞ্জলি দিতেই হবে। তবে উপাধ্যক্ষ তো উপাধ্যক্ষই যদিও তা উন্নত পদমর্যাদায় , তাই খুব একটা খুশি হতে পারলাম না।
 ৬)  বিদ্বেষীদের দ্বারাও আল্লাহ অনেক সময় উপকার সাধন করাতে পারেন। আল্লাহর নির্দেশ যখন নূহ( আ) কিস্তি বানালেন তখন অবিশ্বাসীরা পায়খানা করে তা পুর্ণ করে দিল।  এ দেখে এক কুষ্ঠ রোগী পায়খানা করতে গিয়ে সেই মলের মধ্যে হাবুডুবু খেল। আল্লাহর ইচ্ছায় সে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেল। মুহূর্তে এই খবর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল।দুর দুরান্ত হতে লোকেরা এই মলকে নিরাময় ভেবে গায়ে মাথাতেই লাগল। যখন তা ফুরিয়া গেল তখন পানি ঢেলে মুছে সে পানি পান করতে লাগল। এভাবে কিস্তি দোয়া মুছে হয়ে ফকফকে হয়ে গেল। নূহ ( আ) এর মন খুশিতে ভরে গেল।
আমার বেলায়ও তেমন কিছুটা হলো। আমি নোয়াখালী কলেজে ফিরে আসলে অনেকেই খুশি হলেও কিছু স্বার্থান্বেষী  বিশেষত: যারা নকল ও ছাত্র রাজনীতি অপব্যবহারে বিশ্বাসী তারা নাখোশ হল। তারা  আমার পূন: বদলীর চেষ্টার ছিল। সে সুযোগ আসতে দেরী হল না। শিক্ষা মন্ত্রী এস কে সাদেক দলীয় সাংগঠনিক সফরে নোয়াখালী এসে সার্কিট হাউজে অবস্থান করছিলেন তখন তারা দল বেঁধে এসে আমার বিরুদ্ধে বিষোদগার করে আমাকে বদলী করার জোর দাবী জানান। তিনি একজন প্রাক্তন সচিব হয়েও আমাকে তো নয়ই আমার অধ্যক্ষকেও কিছু জিজ্ঞাসা না করে তাদেরকে সরাসরি আশ্বাস দিয়ে দেন। অল্প কয়েক দিন পর খাগড়াছড়ি কলেজের অধ্যক্ষ হিসাবে আমাকে বদলী করা হয়। এভাবে আমি উপাধ্যক্ষের খোলস বদলিয়ে অধ্যক্ষের খোলস ধরলাম। আমি তাতে খুশি হলাম।
৭)অবসর গ্রহনের পর বাসায় অলস সময় কাটাচ্ছি। অবসর ভাতা পাবার জন্য যথাযত কর্তৃপক্ষ বরাবর আবেদন প্রেরণ করেছি।  ঢাকাতে যারা থাকে তাদের পক্ষে রাত- দিন অফিসে গিয়ে তদবীর করতে পারে ।  শুনেছি অনেকে নাকি জুতার তলা ক্ষত করেও সুফল পায় নি। অবাক কান্ড অনেকে নাকি অবসর ভাতা ভোগ করেও যেতে পারে নি। ঢাকার বাইরের লোকদের আত্মীয়ের বাসায় বা হোটেলে  মাসের পর মাস অবস্থান করে তদবীর চালানো  কতটা কষ্টকর ও ব্যয়বহুল তা সহজেই অনুমেয়। আমার বাড়ী বৃহৎ ঢাকা জেলায় হলেও তদবীর বিরোধী ছিলাম বলে ঢাকায় কোনদিন চাকরী করার সুযোগ হয় নি। একই কারণে ঢাকাতে বাড়ীও বানাতে পারি নি। তাই ঢাকার অফিস আদালত কোথায় তা-ও ভাল মত চিনি না। তাই আল্লাহ উপর ভরসা করেই আছি। এদিকে বছর পেরিয়ে গেল কোন অগ্রগতি  নাই। বিদেশ গিয়ে চিকিৎসার জন্য প্রভিডেন্ট  ফান্ডের তোলা টাকাও শেষ। উপায়ান্তর না পেয়ে আপন লোকদের   ও বন্ধু- বান্ধবদের শরনাপন্ন হয়েও কোন সাড়া পেলাম না ।ফলে না খেয়ে থাকার মত অবস্থা।
আমার ছোট ভাই সোলায়মান মতিঝিল আইডিয়েল স্কুল ও কলেজের শিক্ষক । প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষকরা শিশুদেরকে শিক্ষা দেন মা- বাবার মত, মাধ্যমিক স্কুলে শিক্ষা দেন ভাই বন্ধুর মত এবং উচ্চ শিক্ষা দেয়া অপর জনের মত। কারন সে পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের গভীর সাহাচর্যে আসা সম্ভব নয়।
কিন্তু মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের পরিপক্কতা আসে এবং তারা আদর্শ শিক্ষকদের অনুসরণ করে তাঁদের  অবদানকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ রাখে। জীবনে প্রতিষ্ঠা লাভ করে স্যারদের কোন কাজে আসতে পারলে ধন্য মনে করে। সোলায়মানও তার সাবলিল আচরন দ্বারা শিক্ষার্থীদের মন জয় করতে পেরেছিল। অনেক শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিভাগের অধিকর্তা হয়েও  তার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করছিল। সোলায়মান আমার দুরাবস্থার কথা জানতে পেরে অর্থ বিভাগের জনৈক কর্মকর্তাকে ফোন করলে  সে তার প্রিয় স্যারের কোন কাজে আসতে পারল ভেবে বলল, স্যার আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন, আমি দেখি কি করতে পারি। এক মাসের মধ্যেই সুফল পেয়ে গেলাম।  আর তা হবেই না কেন ? একজন শিক্ষকের দুর্নীতি করার কতটুকু সুযোগ আছে ?  দুর্নীতি করুক বা না করুক বিল পাসকারী কর্মকর্তারও ধারনা এতগুলি টাকা আমার হাত দিয়ে পাশ হবে আর আমি এর কিংছু অংশ পাব না?  তাই   ফাইল আটকাইয়া রাখা চাই। কিন্তু উর্ধ্বতন কর্মকর্তার চাপ আসলে  কোন প্রশ্ন না করে নি:শব্দে ফাইলে সই করে দেয়। সোলায়মান সুসংবাদটি দিলে স্বস্তির নিশ্বাস ফেললাম। এরই মধ্যে সেজ জেঠস ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ কর্মের প্রধান  বেগম হোসেন আরা ও এক বন্ধু নাজমুল আহসান এগিয়ে এসেছিলেন বলে চরম কোন অবস্থার মুখোমুখি হতে হয় নি।
৮) শ্রেষ্ঠ  অধ্যক্ষ নির্বাচন:
শিক্ষার মান উন্নয়নে বিশেষ অবদানের জন্য প্রতি বছর শ্রেষ্ঠ শিক্ষক, শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান নির্বাচনের সরকার প্রবর্তন করেছেন।জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে একটি নির্বাচন কমিটি গঠিত হয়। প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান হতে একজনের নাম চাওয়া হয়। খাগড়াছড়ি কলেজে অধ্যক্ষ হবার পর নিজেই নিজেকে শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ মনোনয়ন দেবার বিকল্প না থাকাতে নিজের নাম  পাঠালাম।
নোয়াখালী কলেজে উপাধ্যক্ষ থাকাকালীন সময়ে অধ্যক্ষ মহোদয় শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসাবে মনোয়ন দিয়েছিলেন। একই সম্মামনার জন্য প্রাইভেট কলেজের অধ্যক্ষরা প্রার্থী ছিল। নির্বাচন কমিটি অধ্যক্ষকে ডিঙ্গিয়ে উপাধ্যক্ষকে নির্বাচন দেয় কি করে ? কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের উপাধ্যক্ষরা অধ্যক্ষের সমমর্যাদার তা হয়ত কমিটির লোকেরা জানেও না।
কমিটির সম্পাদক হচ্ছেন জেলা শিক্ষা অফিসার। তখন জেলা অফিসার ছিলেন  জনাব রাখাল চন্দ্র তালুকদার,বিভিন্ন মিটিং- এ মাঝে মাঝেই দেখা হয়, খাগড়াছড়ি কলেজেও প্রায়ই আসেন। ফলে তাঁর সাথে বিশেষ সখ্যতা গড়ে উঠেছে। তাই শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ হবার জন্য মনোনীত হবার প্রত্যশাটা বেড়ে গেল। কিন্তু বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পারলাম যে , সম্পাদক বাবু আমাকে বাদ দিয়ে রামগড় কলেজের অধ্যক্ষের নাম প্রস্তাব করেছে।  সদ্য যোগদানকৃত  রামগড় কলেজের অধ্যক্ষ এমন কি অবদান রাখল যার জন্য তাঁর নাম সুপারিশ করা হল, ভেবে পেলাম না। কিন্তু খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন আমাদের কলেজের কার্যক্রমের বারবার উচ্ছসিত প্রশংসা করে আসছিল। তরুন সহকর্মীদের দু: সাহসিক ও অক্লান্ত পরিশ্রমে কলেজ হতেই নয় সারা জেলার সকল কলেজ থেকে নকল উচ্ছেদে বিশেষ ভূমিকা রেখেছিল এবং কলেজে পূর্বে যেখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল অপ্রতুল সেখানে বর্তমানে শিক্ষার্থীদের ক্লাশে জায়গা দেয়া যাচ্ছিল না। এসব বিবেচনায় হয়ত তখনকার জাদরেল ডিসি ইসমাইল হোসেনের যুক্তির কাছে সম্পাদক সাবের সুপারিশ পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে টিকে নাই। আল্লাহর শোকর আদায় করলাম।
৯) প্রসংগত: , আমার বড় শ্যালকের স্ত্রী এবং চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের এনাটমি বিভাগের সাবেক প্রধান ডাক্তার মমতাজ ইসলাম সার্বক্ষনিকভাবে ডাক্তারদের সঙ্গে থেকে আমার দুই মেয়ে ও উক্ত সন্তানের জন্মের সময় সাহায্য করেছে। আমাদের পরিবারের যে কোন অসুখ- বিসুখে সে আমাদের পারিবারিক চিকিৎসকের দায়িত্ব পালন করে ঋনের বোঝা বাড়িয়েছে।
আজও  বিভিন্ন দিক থেকে সাহায্যের প্রবাহ থেমে নেই। আমার লেখালেখি প্রকাশে ও বিতরণে আত্মীয় – স্বজন, বন্ধু- বান্ধব, সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা আজও সাহায্য করে যাচ্ছেন। দিনে দিনে ঋণের বোঝা বেড়ে বেড়ে পাহাড় সমান হচ্ছে। তা কোন দিন শোধ করতে পারব না। কেবল দোয়া করি আল্লাহ যেন তাঁদেরকে উত্তম প্রতিদান দিন।
-আল মামুন জাহানগীরি, শিক্ষাবিদ, বর্তমানে কানাডা প্রবাসী

0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

একই বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2021 Chardike24.com
Site Customized By NewsTech.Com