test
Sunday, June 23, 2024

নির্বাচন বিলম্ব মামলা: পাকিস্তানবাসীর নজর শুনানির দিকে

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: সুপ্রীম কোর্টের তিন সদস্যের বেঞ্চ আজ পাঞ্জাব ও কেপি নির্বাচনের বিষয়ে শুনানি করবে। ৮ অক্টোবর পাঞ্জাব নির্বাচন স্থগিত করার জন্য পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশনের আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে পিটিআইয়ের আবেদনের পাশাপাশি স্বতঃপ্রণোদিত আবেদন গ্রহণ করবে পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি উমর আতা বন্দিয়ালের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ । অপরদিকে পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট (পিডিএম) বেঞ্চের শুনানি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। এদিকে, পিডিএম-এর প্রতিনিধিত্বকারী কৌঁসুলি এই বিষয়ে শুনানি শুরুর আগে আজ সকাল ৯টায় সুপ্রিম কোর্টে অ্যাটর্নি জেনারেলের সাথে একপ্রস্থ বৈঠক করবেন। জেইউআই-এফ-এর কৌঁসুলি কামরান মুর্তজা দ্য নিউজকে বলেছেন যে পিডিএম নেতৃত্বের নির্দেশ পাওয়ার পর তারা আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করবেন। তিনি বলেন, আদালতের কার্যক্রম বর্জন করা উচিত কি না তা নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নেবে।

তাঁর মতে, যেহেতু আদালত ইতিমধ্যেই একটি পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ গঠন করতে অস্বীকার করেছে, তাই মামলাটি বয়কট করা উচিত কিনা তা সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। গত শুনানির সময় অ্যাটর্নি জেনারেল, সেইসাথে পাকিস্তান বার কাউন্সিল, বিষয়টি শুনানির জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ আদালত গঠনের জন্য আদালতকে অনুরোধ করেছিলেন। আদালত অবশ্য সরকারের আবেদন নাকচ করে দেন।আজ অর্থ সচিব ও প্রতিরক্ষা সচিবকে তলব করেছে আদালত। এদিকে পাঞ্জাব ও কেপি নির্বাচনের মামলায় বিলম্বের জন্য তিন সদস্যের সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ গঠনের বিষয়ে আপত্তি তুলে ক্ষমতাসীন জোট বিচারপতি ইয়াহিয়া আফ্রিদি এবং বিচারপতি আতহার মিনাল্লাহর বিস্তারিত রায়ের উপর নজর রাখছে। উচ্চপদস্থ সূত্রগুলো রোববার সন্ধ্যায় দ্য নিউজকে জানায়, অ্যাটর্নি জেনারেল (এজি) মনসুর উসমান আওয়ান তিন সদস্যের বেঞ্চের সামনে দাখিল করবেন যে, ক্ষমতাসীন জোটের অন্তর্ভুক্ত দলগুলো প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের ওপর আস্থা রাখে না।

একটি পূর্ণাঙ্গ আদালতের বেঞ্চ গঠনের দাবি জানিয়েছে তারা। প্রধান বিচারপতির দ্বারা আবেদন মঞ্জুর না হলে, এজি মামলাটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করবেন এবং কার্যধারা বয়কট করার ক্ষমতাসীন জোটের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আদালতকে অবহিত করবেন। নীতিগতভাবে, ক্ষমতাসীন জোটের তিনটি প্রধান দল – পাকিস্তান মুসলিম লীগ (পিএমএলএন), পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) এবং জেইউআই-এফ-এর পক্ষ থেকে আপত্তি তোলা হবে। ক্ষমতাসীন জোটের অংশীদাররা প্রাথমিক পর্যায়ে বিবাদী হিসেবে স্বীকৃতি চাইলেও শেষ শুনানি পর্যন্ত আদালত তাদের পক্ষ হিসেবে গ্রহণ করে নি।
সূত্রগুলি জানাচ্ছে যে শুনানির আগে রেড জোনে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার আয়োজন করা হয়, বিশেষ করে কনস্টিটিউশন এভিনিউ যেখানে সুপ্রিম কোর্ট কমপ্লেক্স এবং সংসদ ভবন অবস্থিত। শুনানির সময় সংসদের দুই কক্ষ পৃথকভাবে অধিবেশনে বসবে। সরকার ফেডারেল সেক্রেটারি অফ ফিনান্স এবং ফেডারেল সেক্রেটারি অফ ডিফেন্সকে আজ আদালতের তিন সদস্যের বেঞ্চে হাজির হওয়ার জন্য কোনও নির্দিষ্ট নির্দেশ জারি করেনি যদিও আদালত আজ তাদের হাজির হওয়ার আদেশ জারি করেছিল। উভয়কেই আদালতে হাজিরার জন্য তলব করা হয়েছে। পিটিআই এবং তার চেয়ারম্যান ইমরান খান তিন সদস্যের বেঞ্চের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছেন। তারা বর্তমান বেঞ্চ বা এমনকি পূর্ণ আদালতের বেঞ্চ দ্বারা শুনানির জন্য প্রস্তুত। ইসিপির প্রতিনিধিত্ব করছেন বিশিষ্ট আইনজ্ঞ অ্যাডভোকেট ইরফান কাদির যিনি এর আগে সৈয়দ ইউসুফ রাজা গিলানির নেতৃত্বাধীন পিপিপি সরকারে অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। অ্যাটর্নি জেনারেল মনসুর আওয়ান রোববার তার সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন যেখানে তারা সুপ্রিম কোর্টে শুনানি করা বিষয়টির সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেন। দুই প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ৮ অক্টোবর তারিখ নির্ধারণ করেছে ইলেকশান কমিশন। পিটিআই বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচনের জন্য চাপ দিচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে রাষ্ট্রপতি ৩০ এপ্রিল ভোটের দিন হিসাবে নির্ধারণ করেছিলেন। রবিবার সন্ধ্যায় এক প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে ইরফান কাদির বলেন, তিনি তার মক্কেলের কাছ থেকে নতুন নির্দেশনা নেবেন। কমিশন আদালতের কার্যক্রম বয়কট করবে এমন সম্ভাবনা নেই।ইরফান কাদির এই মামলায় ব্যাপকভাবে যুক্তি উপস্থাপনের পরিকল্পনা করেছেন এবং নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে কমিশনের কর্তৃত্বের বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান নেবেন। ক্ষমতাসীন জোটের সদস্যদের ইতিমধ্যেই হাউসে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে, কারণ প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফও হাউসের পুরো কার্যক্রমে যোগ দেবেন।

এদিকে, সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে যে, তিন সদস্যের বেঞ্চের রায় আজ হস্তান্তর করা হলে, সংসদের দুই কক্ষে আলোচনা চলবে। জিও নিউজ শো নয়া পাকিস্তানের সাংবাদিক শেহজাদ ইকবালের সাথে কথা বলার সময়, পিএমএলএন নেতা মালিক আহমেদ খান বলেছেন, নির্বাচন স্থগিত করার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট মামলার শুনানি করতে পারে কিনা তা সর্বাগ্রে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী আজ পিএমএলএন সংসদীয় দলের একটি বৈঠক ডেকেছেন, যা সংসদ ভবনে দুপুর ১টায় অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কৌশল নির্ধারণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী পরে বিধানসভা অধিবেশনে যোগ দেবেন।শেহবাজ সমস্ত পিএমএলএন নেতাদের সভায় উপস্থিত থাকার জন্য নির্দেশ দিয়ে বলেছেন ‘দেশের ভবিষ্যত গুরুত্বপূর্ণ’।তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য এই বৈঠক একটি নির্ধারক ভূমিকা নেবে। একটি নিউজ চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পিটিআই নেতা ফাওয়াদ চৌধুরী বলেন, সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যেই দুটি প্রদেশে সাধারণ নির্বাচন সংগঠিত করার পক্ষে রায় দিয়েছে। এখন তিন সদস্যের এই বেঞ্চে তার আদেশ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানি চলছে। যদি সর্বোচ্চ আদালতের আদেশ বাস্তবায়িত না হয়, তবে প্রধানমন্ত্রীর নিজের বাসায় চলে যাওয়া উচিত। পিটিআই কর্মীদের জামিনের বিলম্বের বিষয়ে তিনি বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। ফাওয়াদ বলেন যে এই ধরনের বিচারকদের তাদের পদ থেকে পদত্যাগ করা উচিত।

সূত্র : thenews.com

- Advertisement -spot_img

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ খবর