Sunday, May 26, 2024

রেকর্ড দামে বিক্রি হলো দুবাইয়ের কৃত্রিম দ্বীপ

মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের সবচেয়ে ধনী আমিরাত বা রাজ্য ইতোমধ্যে বৈশ্বিক অর্থনীতির অন্যতক কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের কোটিপতি ধনকুবেরদের অনেকেই দুবাইয়ে বিলাসবহুল বাসভবন, জমি, আবাসন ভবন কিনছেন, ফলে রিয়েল এস্টেট ব্যবসাও ফুলে-ফেঁপে উঠছে আমিরাতের এই রাজ্যটিতে।

এই ধারাবাহিকতার মধ্যেই গত ১৯ এপ্রিল দুবাইয়ের সংলগ্ন ছোটো একটি কৃত্রিমভাবে তৈরি দ্বীপ বিক্রি হয়েছে ৩ কোটি ৪০ লাখ ডলারে বা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩৬০ কোটি ৭৪ হাজার টাকায়। দুবাইয়ের রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় দ্বীপ বিক্রির এই ব্যাপারটিকে বিবেচনা করা হচ্ছে একটি মাইলফলক হিসেবে। কারণ, এর আগে এত বেশি দামে কোনো রিয়েল এস্টেট সম্পদ বিক্রি হয়নি সেখানে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের বরাত দিয়ে ভারতের এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৯ এপ্রিল বিক্রি হওয়া দ্বীপটির নাম জুমেরিয়াহ বে আইল্যান্ড, আয়তন মাত্র ২৪ হাজার বর্গফুট। সামুদ্রিক প্রাণী ‘সী হর্স’ আকৃতির এই দ্বীপটির সঙ্গে দুবাইয়ের মূল ভূমির সঙ্গে সেতু সংযোগ আছে।

দ্বীপটি যিনি কিনেছেন, তার নাম-পরিচয় জানা জায়নি। তবে এটুকু জানা গেছে— তিনি আমিরাতের মানুষ নন এবং সেখানে থাকেনও না। এটি আগে যার মালিকানায় ছিল, তিনি অবশ্য আমিরাতের মানুষ। তবে তার নামও গোপন রেখেছে দুবাইয়ের সরকার।

দুবাইয়ের ভূমি দপ্তরসূত্রে জানা গেছে, আমিরাতের ওই ব্যক্তি দু’বছর আগে দুবাইয়ের প্রশাসনের কাছ থেকে ৩ কোটি ৬০ লাখ ৫০ হাজার দিরহাম বা ১০৪ কোটি ১৪ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ টাকায় কিনেছিলেন জুমেরিয়া বে আইল্যান্ড। দু’বছর পর প্রায় তিনগুণ দামে দ্বীপটি ব্রিক্রি করে দিলেন তিনি।

জুমেরিয়া বে আইল্যান্ডের সাম্প্রতিক ব্রিক্রিতে ব্রোকারের দায়িত্ব পালন করছে আন্তর্জাতিক রিয়েল এস্টেট সংস্থা নাইট ফ্র্যাঙ্ক। এই সংস্থার দুবাই শাখার প্রধান অ্যান্ড্রু কামিংস ব্লুমবার্গকে বলেন, ‘কৃত্রিম এই দ্বীপটিতে বালু ছাড়া আর কিছুই নেই। তবে এটির ভিত্তি বহুতল ভবন নির্মাণ করার মতো দৃঢ়। যে দামে দ্বীপটি বিক্রি হয়েছে, তা রীতিমতো রেকর্ড।’

কামিংস জানান, করের নিম্নহার, উন্নত জীবনযাত্রা, অপরাধের মাত্রা নিম্ন থাকা এবং সম্পত্তি ক্রয় সম্পর্কিত শর্তগুলো সহজ হওয়ার কারণে গত কয়েক বছর ধরেই দুবাইয়ে সম্পত্তি কেনার ব্যাপারে আগ্রহ বাড়ছে বৈশ্বিক কোটিপতি ধনকুবেরদের। এই মাত্রা আরও বেড়েছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে।

‘নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ার ধনকুবেরদের অনেকেই যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপে সম্পত্তি কিনতে পারছেন না। এ কারণে তারা দুবাইকে বেছে নিচ্ছেন,’ ব্লুমবার্গকে বলেন কামিংস।

- Advertisement -spot_img

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ খবর