Saturday, April 20, 2024

বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের মতো আ.লীগ সরকারও অবাধ নির্বাচন চায়: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের মতো আওয়ামী লীগ সরকারও অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চায় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। লন্ডনে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস ক্লিভারলি এবং তার স্ত্রী সুজানা স্পার্কসের সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলের।

শেখ হাসিানা বলেন, ‘আমরাও সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। আমার দল সব সময় দেশে গণতন্ত্র বজায় রাখে। আমরা দেশের গণতন্ত্রকে একটি শক্তিশালী ভিত্তি দিয়েছি।’

স্থানীয় সময় শনিবার তাদের সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. এ কে আব্দুল মোমেন এ সব কথা জানান।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট মেয়ে এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর একমাত্র বোন শেখ রেহানাসহ অন্যরা শেখ হাসিনার অবস্থানস্থল দ্য ক্লারিজ হোটেলের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

হোটেলে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে আসন্ন সাধারণ নির্বাচন নিয়ে কথা বলেছেন এবং তারা দেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন চান। জবাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমরা একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এতে সবার অংশগ্রহণ প্রয়োজন এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আমি সবার সহযোগিতা চাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু করেছে যার মধ্যে রয়েছে ছবিসহ ভোটার তালিকা এবং স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স প্রবর্তন, কেউ যাতে নির্বাচনে কারচুপি করতে না পারে।

উল্টো বিএনপি তাদের আমলে ভোট কারচুপির জন্য ১ কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার নিয়ে ভোটার তালিকা তৈরি করেছিল বলেও জানান শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো আনার পাশাপাশি আমরা নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) স্বাধীন ও যথেষ্ট শক্তিশালী করেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশ ওয়েস্টমিনস্টারের মতো গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, যার অনুসরণে প্রশ্নোত্তর পর্ব চালু করেছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, ‘বৈঠকে রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি জলবায়ু, ব্যবসা-বাণিজ্যের মতো বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক ইস্যুগুলো আলোচনায় এসেছে।’

বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মানবিক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনে ব্রিটেন বাংলাদেশের পাশে থাকবে।’

 মোমেন বলেন, ব্রিটিশ সরকার নিরাপত্তা পরিষদে রোহিঙ্গা ইস্যুতে একটি বিল এনেছে এবং রেজুলেশন পাস করতে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে।

রাজা তৃতীয় চার্লসের রাজ্যাভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ায় যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের স্বাধীনতার পর পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে লন্ডনে আসার পর থেকে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের খুব ভালো সম্পর্ক রয়েছে এবং সেখানে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।’

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর এবং দিন যত ঘনিয়ে আসছে সম্পর্ক জোরদার হচ্ছে সুসংহত হচ্ছে।’

শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রশংসা করেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের প্রশংসা করেছেন এবং স্মরণ করেন যে রানী সর্বদা তার এবং তার ছোট বোন শেখ রেহানার বিষয়ে খোঁজখবর নিতেন।

ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জেল হোসেন মিয়া, প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতা লেখক এম নজরুল ইসলাম এবং যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

- Advertisement -spot_img

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ খবর